গাজা সিটির দুইটি এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাজা শহরের কেন্দ্রের প্রবেশপথে ইসরায়েলি ট্যাংক প্রবেশের একই সময়ে পুরো উপত্যকায় ইন্টারনেট ও ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে বাসিন্দারা মনে করছেন, স্থল অভিযান দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটির পূর্ব উপশহরগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শেখ রাদওয়ান ও তেল আল-হাওয়া এলাকায় প্রচণ্ড হামলা চালাচ্ছে।
ইসমাইল নামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘ইন্টারনেট ও ফোন সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া অশুভ সংকেত। সবসময়ই এর মানে হচ্ছে,খুব ভয়াবহ কিছু ঘটতে যাচ্ছে।’ ফোনে সংযোগ পেতে তিনি একটি ই-সিম ব্যবহার করছিলেন, যা বিপজ্জনক। কারণ এর জন্য উঁচু জায়গায় উঠতে হয়।
এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি টেলিযোগাযোগ কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের সেবা ‘চলমান আগ্রাসন এবং প্রধান নেটওয়ার্ক রুটগুলো লক্ষ্যবস্তু’ করার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
ব্ল্যাকআউট নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সাড়া দেয়নি।
তবে এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ভেঙে ফেলা এবং ‘সন্ত্রাসীদের নির্মূল’ করতে গাজা সিটিতে অভিযান সম্প্রসারিত করছে তারা। পাশাপাশি তারা দক্ষিণের খান ইউনিস ও রাফাহ এলাকাতেও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭৯ জন ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলা বা গুলিতে নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই গাজা সিটির বাসিন্দা।
ইসরায়েল বলছে, তারা গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসকে তাদের ঘাঁটিতে ধ্বংস করতে এবং এখনও আটক শেষ জিম্মিদের মুক্ত করতে চায়। তবে দুই বছরের বিধ্বংসী যুদ্ধের পর শুরু হওয়া সাম্প্রতিক বৃহৎ অভিযান আন্তর্জাতিক নিন্দার জন্ম দিয়েছে।
৩০ সদস্যের পরিবার নিয়ে একটি জরাজীর্ণ অস্থায়ী তাঁবুর শিবিরে সমুদ্রসৈকতে আশ্রয় নিয়েছেন বাসসাম আল-কানু। তিনি বলেছেন, তাদের বেরোনোর কোনও উপায় নেই,যাওয়ার মতো কোনও জায়গাও নেই।
তিনি আরও জানান,শিশুরা ঘুমোতে পারছে না আতঙ্ক আর সমুদ্র, আকাশ ও স্থল থেকে আসা অবিরাম মিসাইল হামলার শব্দে।
সেনাবাহিনী অবশ্য প্রচারপত্র বিলি করছে,যাতে বাসিন্দাদের দক্ষিণাঞ্চলে নির্ধারিত ‘মানবিক অঞ্চলে’ পালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে,সেখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ—খাবার, ওষুধ, জায়গা ও আশ্রয়ের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।