ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে সংস্কারের ঘোষণা জেলেনস্কির

ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে সংস্কারের ঘোষণা জেলেনস্কির

ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি খাতে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসার পর রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি কোম্পানিগুলোতে বড় ধরনের সংস্কারের অঙ্গীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার হামলায় বিদ্যুৎব্যবস্থা বিপর্যস্ত এমন পরিস্থিতিতে এই কেলেঙ্কারি দেশটিতে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কার্যক্রমের পূর্ণ অডিটসহ ব্যবস্থাপনা নবায়ন করা হবে। কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান এনার্গোঅ্যাটমের জন্য এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড গঠন করা হবে।

এ ঘটনায় জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। রুশ বাহিনীর ক্রমবর্ধমান হামলার মধ্যেই এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসলো।

জেলেনস্কি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও দুর্নীতি দমন সংস্থার সঙ্গে সরকারের অব্যাহত ও কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনকারী উক্রহাইড্রোএনার্গোর নতুন প্রধান দ্রুত নিয়োগ, তেল-গ্যাস কোম্পানি নাফতোগাজ এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন সিস্টেম অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

কেলেঙ্কারির জেরে দুই মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। জেলেনস্কির সাবেক ব্যবসায়িক সহযোগীসহ কয়েকজনকে নিষিদ্ধ করা হয়। সোমবার জাতীয় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (নাবু) এবং বিশেষ দুর্নীতি দমন প্রসিকিউটরের কার্যালয় (স্যাপ) জানায়, ১৫ মাসের তদন্ত শেষে সরকারের কয়েক সদস্যের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বিচারমন্ত্রী হারমান হালুশচেঙ্কো, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি চেরনিশভ এবং জেলেনস্কির সাবেক টিভি স্টুডিও কভারতাল৯৫–এর সহ-মালিক ও ব্যবসায়ী টিমুর মিন্ডিচ।

জেলেনস্কি আগে থেকেই জানিয়েছেন, তিনি দুর্নীতি তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। শনিবার তিনি আবারও বলেন, জ্বালানি খাতে পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সততা তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

তবে কেলেঙ্কারিটি দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে জেলেনস্কির অঙ্গীকারকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। জুলাইয়ে তিনি নাবু ও স্যাপের স্বাধীনতা সীমিত করার আইন সই করায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে সিদ্ধান্ত বদলে তাদের স্বাধীনতা পুনর্বহাল করলেও ফ্রান্স-জার্মানি সহ ইউরোপীয় সহযোগীরা এবং জি-সেভেন রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতেরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আলোচনার আগ্রহ জানান।

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin