দীর্ঘ ৩৩ বছর পর নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধি পেলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। নানা বিতর্ক ও উত্তেজনার পর শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন কমিশন। এতে ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন প্যানেলের আব্দুর রশিদ জিতু। ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিজের অঙ্গীকার, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।
বাংলা ট্রিবিউন: ভিপি হওয়ার অনুভূতি কেমন?
আব্দুর রশিদ জিতু: ৩৩ বছরের চাওয়া পূর্ণতা পেয়েছে। এই জাহাঙ্গীরনগর আমাকে চেয়েছে বিধায় আজ ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। ক্যাম্পাসের প্রতিটা মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, দায়বদ্ধ। আমার প্রতিটি কাজ হবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে। তাদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। শিক্ষার্থীদের পাশে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার নেতৃত্বে প্রথম কাজ কী হবে?
আব্দুর রশিদ জিতু: আমার প্রথম কাজ হবে একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। পাশাপাশি সব দলমত ও ধারার শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে নিয়ে একটি ইনক্লুসিভ জাহাঙ্গীরনগর তৈরি করা।
বাংলা ট্রিবিউন: শিক্ষার্থীদের বর্তমানে বড় সমস্যা কোনগুলো বলে আপনি মনে করেন?
আব্দুর রশিদ জিতু: বর্তমানে অনেকগুলো সমস্যা আছে। তার মধ্যে—নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা, হলগুলোতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র ও পরিবহন খাতের সমস্যা। এসবকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করবো।
বাংলা ট্রিবিউন: ভিপি হওয়ার ইচ্ছে কী আগে থেকেই ছিল?
আব্দুর রশিদ জিতু: আসলে জাকসুর নেতা কিংবা ভিপি হওয়ার ইচ্ছে আমার ছিল না। আমার ইচ্ছে ছিল শিক্ষার্থীরা ৩৩ বছর যে অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, সে অধিকারটা ফিরিয়ে দেওয়া।
বাংলা ট্রিবিউন: ফল নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, আপনি কীভাবে দেখছেন?
আব্দুর রশিদ জিতু: ফল নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। এটি কেবল আমার জয় নয়, শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতিফলন। তাদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে আমি নির্বাচিত হয়েছি। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাকে এখানে এনেছে। তাদের আস্থার প্রতিদান দিতে চাই। তাদের স্বার্থ রক্ষা করাই হবে আমার একমাত্র দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, জাকসুর নতুন ভিপি হিসেবে তিন হাজার ৩২৪ ভোট পেয়েছেন আব্দুর রশিদ জিতু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির-সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের আরিফ উল্লাহ পেয়েছেন দুই হাজার ৩৭৯ ভোট।