জামায়াতে ইসলামী ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচার চালানোর জন্য একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী। তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা কিছু ছেলেপেলেকে দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার, কটূক্তি ও করুচিপূর্ণ কথা ছড়ানোর বাহিনী গড়ে তুলেছে। এরা মিথ্যাকে সাজিয়ে- গুছিয়ে প্রচার করছে প্রতিনিয়ত।’’
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘‘ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া সহজ হবে, এমন প্রচারণা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা। জামায়াত নিজেদের ক্ষোভের জোরে পিআর চাপিয়ে দিতে চাচ্ছে এবং নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র করছে। সাধারণ মানুষ পিআর সম্পর্কে জানে না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা নভেম্বরে গণভোটের কথা বলছেন, তাদের একটি মাস্টারপ্ল্যান রয়েছে। তারা শর্ত আরোপের মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করে জাতীয় নির্বাচনকে বিলম্বিত করতে চায়।’’
তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত এখনও আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় থাকতে চায়। তাদের রাজনৈতিক চাতুর্য দেখেই বোঝা যায়, তারা কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোট টানার পাঁয়তারা করছে। একদিকে পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন), সংস্কার, গণভোট— এসব দিয়ে বিতর্ক তৈরি করছে, অপরদিকে ধর্মীয় আবেগে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।’’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘‘বাংলাদেশে নতুন কোনও ইসলামিক ধারার নাম করে বিভ্রান্তিকর মতাদর্শ ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। এটিকে ‘মওদুদীবাদ’ বলে চিহ্নিত করা যায়। বাংলাদেশের মানুষ এটা কোনোদিনই গ্রহণ করবে না। আমাদের ঈমান, আকিদা ও তাওহিদে বিশ্বাসের জায়গায় এই ধরনের মতাদর্শের কোনও স্থান নেই।’’
তিনি বলেন, ‘‘৭১ সালের যারা ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছিল, তারাও তো মুসলমান ছিল। কিন্তু একজন মুসলমান আরেকজন মুসলমানের ওপর কীভাবে এমন অত্যাচার করতে পারে? যারা এসব অপরাধের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বা করছে, তারা কি ভালো মানুষ? নিজেদের অতীত ভুলে গিয়ে এখন ধর্মের দোহাই দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো আর ক্ষমতার জন্য যেকোনও পথ নেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।’’