জাতীয় লীগের কার্যালয়-গঠতন্ত্র নেই, নিবন্ধনে আপত্তি এনসিপির

জাতীয় লীগের কার্যালয়-গঠতন্ত্র নেই, নিবন্ধনে আপত্তি এনসিপির

ঢাকা: জাতীয় লীগকে নিবন্ধন দিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নেওয়া প্রাথমিক সিদ্ধান্তের আপত্তি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভিযোগ জাতীয় লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গঠনতন্ত্র নেই, কোনো কার্যক্রমও নেই।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বসে এমন আপত্তি জানায় এনসিপি।

জাতীয় লীগ নামের একটি দলকে নিবন্ধন দেওয়া নিয়ে ইসির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বলেন, এ জাতীয় লীগের যিনি প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আতাউর রহমান খান, তিনি একসময় পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। বাংলাদেশেরও তিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এবং একপর্যায়ে বাকশালে যোগদান করেছিলেন তার দল বিলুপ্ত করে। পরে আবার দল বিলুপ্ত করে এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এবং ১৯৯১ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, তার ছেলে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেছিলাম, যে এই জাতীয় লীগ ১৯৯১ সালে আতাউর রহমান খান মৃত্যুবরণ করার পরে আর কীভাবে এ জাতীয় লীগের দল হিসেবে ধারাবাহিকতা ছিল। তাদের নিবন্ধন দরখাস্তে যে প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, টানপাড়া আঁটি, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ;  টানপাড়া আঁটি নামে আসলে কোনো জায়গারই অস্তিত্ব নেই। এছাড়া ওই দলের কোনো গঠনতন্ত্র নেই, ওই দলের যারা নেতৃত্ব দেন, তাদেরকে কেউ চেনে না। মাঠে কোনো কর্মসূচি নেই। আমরা নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেছিলাম যে আপনারা এমন একটি দলের নিবন্ধন দেওয়ার ব্যাপারে কীভাবে সিদ্ধান্ত নিলেন? আপনাদের যে প্রক্রিয়াগুলো আছে সেই প্রক্রিয়াগুলো পার হয়ে আপনাদের প্রক্রিয়ার ভেতরে ফিজিক্যালি তাদের প্রধান কার্যালয় ভিজিট করার কথা আছে। সেই প্রধান কার্যালয় ভিজিট করে কীভাবে এটা ওকে পেলেন এবং ওকে যদি পেয়ে থাকেন তাহলে এ যে প্রশ্নগুলো এখন আসছে, সেগুলোর ব্যাপারে আপনারা কী জবাব দেবেন?

এনসিপির এ নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে আমাদেরকে জানানো হয়েছে যে তারা এই বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন এবং এরই মধ্যে তারা ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন এ বিষয়টি রিভিউ করার জন্য। একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির কাজে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। আমরা বলেছি রিপোর্টিংয়ের পরেই যেহেতু তাদের নিবন্ধন দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার মানে প্রধান কার্যালয় দলের, গঠনতন্ত্র সব কিছুই আপনারা ওকে পেয়েছিলেন। তাহলে আপনাদের যে অফিসার এ তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তারা ভুল বা মিথ্যা রিপোর্ট কমিশনে দিয়েছে এবং সেটার ওপরে কমিশন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তাদের ব্যাপারে অবশ্যই আপনাদের বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি নিবন্ধন প্রত্যাশী নতুন দলগুলোর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় লীগ ও এনসিপিকে নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়া আরও ১৩টি দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পর্যালোচনাধীন রেখেছে সংস্থাটি।

ইইউডি/জেএইচ

Comments

0 total

Be the first to comment.

ইসলামী ব্যাংক ও সমমনা প্রতিষ্ঠান থেকে ভোট কর্মকর্তা নয়, ইসিকে বিএনপি Banglanews24 | নির্বাচন ও ইসি

ইসলামী ব্যাংক ও সমমনা প্রতিষ্ঠান থেকে ভোট কর্মকর্তা নয়, ইসিকে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী ব্যাংক এ সমমনা প্রতিষ্ঠানের কাউকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার দায়িত্ব না...

Oct 23, 2025

More from this User

View all posts by admin