এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় রুশ যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশ নিয়ে আলোচনা করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন এস্তোনিয়া ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। এস্তোনিয়া এই জরুরি বৈঠকের অনুরোধ জানায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানিয়েছেন, এই জরুরি বৈঠক সোমবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার তিনটি রুশ মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান ফিনল্যান্ড উপসাগরের আকাশপথ দিয়ে অনুমতি ছাড়াই এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ন্যাটোর এক মুখপাত্রের তথ্যানুযায়ী, এই বিমানগুলো আকাশে ১২ মিনিট অবস্থান করে। পরে ন্যাটো তাদের বাধা দেয়।
এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারগুস চাহকনা এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ সকল জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য নীতিমালাকে দুর্বল করছে।
তিনি আরও লেখেন, ‘যখন এ ধরনের পদক্ষেপ নিরাপত্তা পরিষদের একজন স্থায়ী সদস্য গ্রহণ করে, তখন তা অবশ্যই ঐ সংস্থার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।’
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য অস্বীকার করেছে যে তাদের বিমান এস্তোনিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। তারা দাবি করেছে, এসব উড্ডয়ন আন্তর্জাতিক নিয়মের কঠোর অনুসারে পরিচালিত হয়েছে।
ইউক্রেনও নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত হয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরার অনুরোধ করেছে। এই অনুরোধ জানানো হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াকে, যারা বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্বে আছে।
ইউক্রেনের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এক্সে লেখেন, ‘৩৪ বছরের মধ্যে প্রথমবার এস্তোনিয়া জরুরি বৈঠকের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুরোধ করেছে। এটি দেখায় আক্রমণাত্মক রাশিয়া ইউরোপের স্থিতিশীলতার প্রতি কতটা নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করছে।’
আকাশসীমা লঙ্ঘনের পর এস্তোনিয়া ন্যাটো সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে পরামর্শ বৈঠকেরও অনুরোধ জানিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেকোনও সদস্য দেশ জোটের মূল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার নজরে আনতে পারে। এ বৈঠক এই সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গত সপ্তাহে কয়েকটি রুশ ড্রোন ও যুদ্ধবিমান পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশের পর পোল্যান্ডও অনুচ্ছেদ ৪ এর আওতায় পরামর্শ বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিল।