পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, পত্রিকায় হেডলাইন হয়েছে— জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিন মুখোমুখি। এটা লেখা উচিত ছিল— ফিলিস্তিন বাংলাদেশের মুখোমুখি। কারণ, আমরা অনেক আগে প্রার্থী দিয়েছি। তিনি বলেন, মূলত আমাদের প্রতিযোগিতা ছিল সাইপ্রাসের সঙ্গে। অনেক পরে ফিলিস্তিন এখানে যোগ দিয়েছে। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগও করেনি এই বিষয়ে, যেটা সাধারণত করা স্বাভাবিক ছিল।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, জাতিসংঘের সভাপতি পদে নির্বাচনের কথা তো চার বছর আগে বলা হয়েছে। এই সরকারের আমলে সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। এটা বড় অদ্ভুত ব্যাপার, আমাদের সাংবাদিকরা এভাবে কেন সামনে আনেন, আমি জানি না।
কাতার সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগেই কিন্তু হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিছু শর্তের মাধ্যমে। এখন আলোচনা করতে যাওয়া, আলোচকদের মেরে ফেলার চেষ্টা করার বিষয়টি বড় অদ্ভুত। কারণ যেকোনও যুদ্ধ শেষ করতে হলে আলোচনা তো করতেই হবে। আলোচকদের যদি মেরে ফেলা হয়, কিংবা চেষ্টা করা হয়— তাহলে আলোচনা হবে কী করে। এরকম অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। কাতারে যে সভা হয়েছে, সেটার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই দুঃসময়ে কাতারের প্রতি আমাদের যে সমবেদনা শুধু নয়, তাদের সমর্থন ব্যক্ত করা এবং যে অত্যন্ত গর্হিত কাজ ইসরায়েল করেছে, সেটা উল্লেখ করা।
তিনি বলেন, কাতারে মন্ত্রী পর্যায়ে সভার কাজ ছিল খসড়া তৈরি করা, যেটা সামিটে বিবেচনা করা হবে। খসড়া তৈরি হয়েছে, সেটি সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সম্মেলনে উত্থাপিত হয়েছে এবং অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া ডেলিগেশন প্রধান বেশিরভাগই তাদের দেশের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। ইসরায়েলের আক্রমণের নিন্দা করা, কাতারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করা, এটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
কাতারের সামিট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমরা ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়েছি এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছি।