রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন প্রস্তাবে রাজি না হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজের মতো লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। মার্কিন বার্তাসংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্পের ২৮ দফা সম্বলিত প্রস্তাবই চূড়ান্ত কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপোসের সুযোগ এখনও আছে। তবে জেলেনস্কির হাতে আর কোনও তুরুপের তাস নেই।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে, জেলেনস্কি নিজের মনমতো যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন।
ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জেলেনস্কির প্রতি নিজের বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন প্রস্তাব মূলত রাশিয়ার পক্ষে যাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, জেলেনস্কি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই এই নতুন পরিকল্পনার জবাব দেবেন বলে তিনি আশাবাদী।
এর আগে, শুক্রবার তিনি বলেছিলেন, জেলেনস্কি এটা অনুমোদন করতে বাধ্য। যদিও পরদিন কিছুটা নমনীয় সুরে তিনি বলেন, আমি শান্তিতে পৌঁছাতে চাই।
হোয়াইট হাউজে শনিবার ট্রাম্প বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যুদ্ধ শেষ করতে। যেভাবেই হোক, এটা শেষ করতেই হবে।
এদিকে, সরকারে দুর্নীতির অভিযোগ, যুদ্ধক্ষেত্রে বিপর্যয় এবং রাশিয়ার লাগাতার হামলায় আসন্ন কঠিন শীতকাল নিয়ে উদ্বিগ্ন জেলেনস্কি বলছেন, ইউক্রেন এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি।
জেলেনস্কি এখনও ট্রাম্পের সঙ্গে নতুন প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেননি, তবে শিগগির আলোচনার আশা করছেন। দুই নেতার আগের বৈঠকের ইতিহাসও খুব একটা সুখকর নয়।
২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প ইউক্রেন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দাবি করেন, এই যুদ্ধে মার্কিন করদাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এবং তিনি দ্রুত যুদ্ধ শেষ করবেন।
চলতি বছরের শুরুতে ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে রীতিমতো নাজেহাল করে ছাড়েন। তাদের অভিযোগ ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৮০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সহায়তা দিয়েছে, কিন্তু জেলেনস্কি যথেষ্ট কৃতজ্ঞতা দেখাননি। ওই ঘটনার পর সাময়িকভাবে মার্কিন সহায়তা স্থগিতও করা হয়।
এখন নতুন প্রস্তাবে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে রাশিয়ার কাছে ভূখণ্ড ছাড়া, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর আকার ব্যাপকভাবে ছোট করা এবং ন্যাটোতে ইউক্রেনের যোগদানের সম্ভাবনার বিরুদ্ধে ইউরোপের কাছ থেকে জোরালো আশ্বাসের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
শুক্রবার ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, এখন ইউক্রেনকে খুব কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে- মর্যাদা খোয়ানো অথবা এক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হারানোর ঝুঁকি নেওয়া।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার শর্ত—যদিও ওই এলাকার বড় অংশ এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাশিয়া তার বর্তমান অগ্রগতির গতিতে পুরো এলাকা দখল করতে কয়েক বছর লাগবে।
তবুও ট্রাম্প দাবি করছেন, অঞ্চলটি হারানো সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ফক্স নিউজ রেডিওর এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা অল্প সময়েই এটি হারাবে, আপনি জানেন। তারা ভূখণ্ড হারাচ্ছে।
ট্রাম্প কতটা সময় আলোচনা চালিয়ে যেতে রাজি হবেন, তা অনিশ্চিত। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিয়াভিট বলেছেন, পরিকল্পনাটি পরিস্থিতির বাস্তবতা তুলে ধরে এবং উভয় পক্ষের জন্য সর্বোত্তম পরিস্থিতি তৈরি করে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদ কনস্তান্তিন সোনিন বলেন, ট্রাম্প মানুষের দুর্বল দিকগুলো খুঁজে পেতে অদ্ভুতভাবে দক্ষ। তিনি সম্ভবত হিসাব করছেন, পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির ওপর তার প্রভাব বেশি।
প্রস্তাবের একটি ধারায় চুক্তি কার্যকর হওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে, যা ইউক্রেনীয় রাজনীতিতে অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে।