জিয়ানগরের আ.লীগ নেতা আজাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, বাড়ি-জমি জব্দ

জিয়ানগরের আ.লীগ নেতা আজাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, বাড়ি-জমি জব্দ

পিরোজপুর: পিরোজপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও জিয়ানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আবুল কালাম আজাদের (ইমরান) দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তার নামে থাকা জমি, ফ্ল্যাট, দোকান ও ভবনসহ একাধিক স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পিরোজপুর জেলা অফিসে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ এসেছে বলে দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।  

আদালতে এ আবেদন করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক মঞ্জুরুল ইসালাম মিন্টু। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ৮৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তকালে প্রাপ্ততথ্য অনুযায়ী, তিনি যেকোনো সময় দেশত্যাগ করতে পারেন এবং তার নামে থাকা সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা করছেন। এতে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে এমন যুক্তিতে আদালতের কাছে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের আবেদন করা হয়।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার দেউলপাড়া মৌজার ৬ শতাংশ জমি ও একটি চারতলা ভবন, ঢাকার নিউ বেইলি রোডে একটি ফ্ল্যাট, খুলনার সোনাডাঙ্গার দুটি জমি, ঢাকার দক্ষিণ চামেলীবাগ এলাকার একটি দোকান ঢাকার মাতুয়াইলের ২১ শতাংশ জমি।

দুদক বলছে, অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন। তার বিরুদ্ধে ৮৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শেখ আবুল কালাম আজাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, আবুল কালাম আজাদ উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের চরবলেশ্বর গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে। তার বাবা সেকেন্দার আলী শেখ পেশায় একজন ইট বহনকারী নৌকার মাঝি ছিলেন। আওয়ামী লীগে যোগদানের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং পরে ২০১৬ সালে জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময়ের মধ্যেই তিনি বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান এবং এলাকায় “দুর্নীতিবাজ নেতা” হিসেবে পরিচিতি পান। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আরএ

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin