জলবায়ু পরিবর্তন লিঙ্গ বৈষম্যকে আরও খারাপ করে, নারীদের কার্যক্ষমতা এবং গতিশীলতাকে সীমাবদ্ধ করে। এছাড়া গর্ভনিরোধক, গর্ভাবস্থার ফলাফল এবং নিরাপদ প্রসবের সঙ্গে আপস করতে হয়। এ কারণে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ, অনিরাপদ গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব এবং মাতৃমৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মহাখালীতে ‘জলবায়ু পরিবর্তনে নারী স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব’ নিয়ে আইপাস বাংলাদেশের গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবু জাফর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল প্রকৃতির রূপই বদলাচ্ছে না, বরং সরাসরি হুমকি তৈরি করছে নারীর স্বাস্থ্যের ওপর। তাই নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
গবেষণায় বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাতৃযত্ন, পরিবার পরিকল্পনা, মাসিক নিয়ন্ত্রণ, সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন (এসটিআই) বা রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (আরটিআই) চিকিৎসা এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতায় (জিবিভি) সহায়তার মতো প্রয়োজনীয় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (এসআরএইচআর ) পরিষেবাগুলো সংকটের সময় ব্যাহত হয়। নারী ও মেয়েরা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, বাল্যবিয়ে এবং শোষণের ঝুঁকির মুখোমুখি হন। এছাড়া জলবায়ু-প্ররোচিত অভিবাসন পারিবারিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ জীবিকাকে দুর্বল করে।
অনুষ্ঠানে তুলে ধরা সুপারিশের মধ্যে আছে– সুস্পষ্ট সূচক এবং বাজেট বরাদ্দসহ জলবায়ু এবং দুর্যোগ নীতিতে এসআরএইচআরকে মূলধারায় নিয়ে আসতে হবে; এসআরএইচআর, জেন্ডার, ওয়াশ, শিক্ষা এবং জলবায়ু প্রশাসন খাতে সমন্বয় জোরদার করা; ঝুঁকি মূল্যায়ন, প্রাথমিক সতর্কতা সিস্টেম এবং অভিযোজন পর্যবেক্ষণে এসআরএইচআর যুক্ত করা; সম্প্রদায়, সুবিধা এবং আশ্রয় প্রস্তুতির মাধ্যমে জলবায়ু-প্রতিরোধী স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিচালনা করা; নীতিমালা প্রণয়ন ও মনিটরিংয়ে নারী, মেয়ে ও প্রান্তিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং স্থিতিস্থাপকতা কর্মসূচিতে এসআরএইচআর’র সংহতকরণ বাড়াতে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আর্থিক সহায়তা জোগাড় করা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের (সিসিএইচপিইউ) পরিচালক অধ্যাপক ড. ইকবাল কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন– নারী পক্ষের সভাপতি গীতা দাস, স্বাস্থ্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. এস এম আব্দুল্লাহ আল-মুরাদ, পরিচালক (হাসপাতাল) আবু হোসেন মো. মইনুল হাসান, ডিজিএফপি পরিচালক সুলতান আহমেদ, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মো. ওয়ালী-উল-হক, চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন শাখা) মহম্মদ আব্দুস সালাম খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. সৈয়দ রুবায়েত।