জুলাই আন্দোলন ‘নীল নকশা’র অংশ, স্টেট ডিফেন্সের প্রশ্নে সাক্ষী বললেন—সত্য নয়

জুলাই আন্দোলন ‘নীল নকশা’র অংশ, স্টেট ডিফেন্সের প্রশ্নে সাক্ষী বললেন—সত্য নয়

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে করা মামলায় ৪৮তম সাক্ষী দিয়েছেন ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ।

সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুনায়েদকে জেরা করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের আইনজীবী আমির হোসেন।

পরে সাংবাবিদকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, আলী আহসান জুনায়েদকে আজকে জেরা করেছি। জেরায় বিভিন্ন প্রসঙ্গ এসেছে। শেষ দিকে আমি তাকে প্রশ্ন করেছি, যতগুলো কর্মসূচি আপনারা ঘোষণা করেছেন ৩১ জুলাই মার্চ ফর জাস্টিস, রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস, ১ আগস্টকে ৩২ জুলাই গণণা করা, সরকার পতনের এক দফার দাবি। যে দাবিগুলো ছিল, এগুলো পর্যায়ক্রমে নীল নকশার অংশ, যার শেষ ছিল একটা বৈধ নির্বাচিত সরকারকে তার ক্ষমতা থেকে পদত্যাগ করানো বা অবৈধভাবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যে সমস্ত পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘদিনের, সেটার বহিঃপ্রকাশ। আজকে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি ছিলেন সংগঠনক। সমন্বয়ক না হলেও তিনি মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন। অতএব আমি মনে করি, যে আন্দোলনটা করেছিলেন সেই আন্দোলন ছিল অবৈধ। বৈধ সরকারকে উৎখাতের জন্য। সে প্রসঙ্গে এরকম একটা ম্যাটিকুলাস ডিজাইন ছিল, এর অংশ হিসেবে আন্দোলনটা হয়েছে। এটা আমার মূল বক্তব্য ছিল।

আরেক প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী বলেন, একটা বৈধ সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন করেছে, এটা ষড়যন্ত্রের অংশ। সেই হিসেবে তাদের ষড়যন্ত্রকারী বলেছি। টার্গেট করে গুলি করেছে এই জন্য যেহেতু এটা একটা ষড়যন্ত্র, এজন্য আমি মনে করি, আমার ক্লায়েন্ট মনে করে যে, এই গুলি আমার আসামি শেখ হাসিনা বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে হয়নি। এটা তারা নিজেরাই যে কোনোভাবে তৈরিকৃত গুলির অংশ। এরসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জড়িত না।

শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনার কথা হয়েছে? জবাবে আইনজীবী বলেন, না। এগুলো আমি মনে করি।

তবে এই আইনজীবীর এসব জেরার জবাবে ৪৮তম সাক্ষী আলী আহসান জুনায়েদ বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ততা থাকায় নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছি। এ আন্দোলন কোনো ম্যাটিকুলাস ডিজাইন ছিল না।

এ মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়া অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

এর আগে গত ১০ জুলাই এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সাবেক আইজিপি মামুন নিজেকে ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হিসেবে যে আবেদন করেছেন, তা মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল।

ইএস/এমজেএফ

Comments

0 total

Be the first to comment.

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনারকে ৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজারের নির্দেশ  Banglanews24 | আইন ও আদালত

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনারকে ৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজারের নির্দেশ 

জুলাই আনদোলনের মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের  সাবেক কমিশনার মোঃ সাইফুল ইসলামকে ৩০ অক্টোবর হাজিরের...

Oct 15, 2025

More from this User

View all posts by admin