লাভলী বিথী:
সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় ৮৪টি বিষয়ে একমত রাজনৈতিক দলগুলো। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, পিআর পদ্ধতিসহ মৌলিক কয়েকটি বিষয়ে আছে মত-দ্বিমত। তবে ঐকমত্য কমিশনের সবচেয়ে বড় সংকট এখন সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে।
কমিশনের সংবিধান সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো আগামী জাতীয় সংসদে বাস্তবায়নের পক্ষে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী চায়, নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশ বা গণভোট। আর এনসিপি এক্ষেত্রে গণপরিষদ গঠনের পক্ষে।
জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বা বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো একমত না হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার।
তবে, সনদ বাস্তবায়ন হবে কোন প্রক্রিয়ায়? সংবিধান আদেশ জারি, গণভোট, গণপরিষদ গঠন নাকি নির্বাচিত সংসদে, এ নিয়ে প্রস্তাব থাকলেও মুখ খুলতে চায় না কমিশন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ বলা হয়েছে, নির্বাচিত সংসদই বাস্তাবয়ন করবে সংস্কার প্রস্তাব।
বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, যদি সবগুলো দল একত্রিত হয়, তাহলে সনদে স্বাক্ষর হবে। আমরা আশা করি যে, তা ঘটবে। এরপর এটা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছলে তো ভালো। তা না হলে সরকারকে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
জানা গেছে, রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘সংবিধান আদেশ জারি’ও ‘গণভোটে’র ওপর জোর দিচ্ছে কমিশন । নতুনভাবে আলোচনা হচ্ছে আপিল বিভাগের মতামতের ভিত্তিতে গণপরিষদ গঠনের প্রস্তাবও।
বদিউল আলম মজুমদার বললেন, এখনও এগুলো চূড়ান্ত হয়নি। প্রশ্ন হয়তো দুইটি হতে পারে, যেমন যেগুলোতে আপত্তি নেই, সেগুলো নিয়ে একটা হ্যাঁ/না প্রশ্ন। আরেকটা হলো যেগুলোতে আপত্তি আছে, সেগুলোতে হ্যাঁ/না। এখনও এগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এম মহিউদ্দিন বলেছেন, জুলাই সনদের বিষয়গুলো কিন্তু কারও কাছে স্পষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের কথা বলছি। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন সেটা ভিন্ন বিষয়। জুলাই সনদের প্রত্যেকটা ধারা ভোটারকে বুঝতে হবে, জানতে হবে। অন্যথায় যদি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে সেটার যে ফলাফল সেটা আসলে প্রকৃত ফলাফল হবে না।
বিশেষজ্ঞের মতে, আপত্তির জায়গাগুলো সমাধান না করে গণভোট দেয়াটা হবে অযৌক্তিক। সেক্ষেত্রে ভোটের পর সনদ কতটা কার্যকর হবে এ নিয়ে প্রশ্ন আছে তাদের।
ড. এ এম মহিউদ্দিন বললেন, গণভোটও দেয়া হলো, সংবিধানেও অন্তর্ভুক্ত করা হলো। পরবর্তীতে কোনও এক সময় যদি কোনও সরকারের মনে হয় যে জুলাই সনদের কোনও অংশ তাদের জন সহনীয় নয়, তাহলে সেগুলোকে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বাদ দিয়ে দিতে পারবে। সংবিধান সংস্কারের চেয়েও বেশি জরুরি হচ্ছে যে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংস্কার। রাজনৈতিক দলগুলোর যদি সংস্কার না হয়, তাহলে জুলাই সনদকে সংবিধানের উপরে স্থান, তফসিলে স্থান দেয়া হলেও তাতে কিছু যায় আসে না।
তার মতে, গণভোট করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে তারপর যদি নির্বাচন হয়, তাহলে রাজনৈতিক সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ৫ অক্টোবর থেকে আবারও শুরু হচ্ছে ঐকমত্য কমিশনের সংলাপ।
/এমএন