“জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংষ্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫” নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির শীর্ষনেতৃত্ব থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটির সব সদস্যরা এই আদেশ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ‘ব্লাফ’ (প্রতারিত) বোধ করছেন।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় এই ক্ষোভ উঠে আসে। সংবিধান সংস্কারকে কেন্দ্র করে এই আলোচনা বুধবারও চলবে।
মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশমালা কমিশনের সভাপতি ও প্রধান উপদেষ্টার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্থান্তর করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, জুলাই জাতীয় সনদের সঠিক বাস্তবায়ন জাতিকে অতীতের বোঝা থেকে মুক্ত করবে এবং নতুন বাংলাদেশের পথ দেখাবে।
মঙ্গলবার রাতেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সদস্যরা এই প্রস্তাব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। একবাক্যে কমিটির সকল সদস্যরা বিষয়টিকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত দ্রুতই সরকারকে অবহিত করবে বিএনপি।
স্থায়ী কমিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবারের বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংষ্কার) বাস্তবায়ন আদেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা। তারা বলছেন, এই সংস্কারের প্রস্তাব পাশ করার প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিবেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে সরকার। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ওয়ান-ইলেভেনের দিকে এগোচ্ছে কিনা।
বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার ভাষ্য, “বিএনপি ব্লাফ ফিল করছে।”
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw69011e6b46bc2" ) );
জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা এই সুপারিশ মানি না। আমাদের দলের অবস্থান জানানো হবে। সবেচেয়ে বড় স্টেক হোল্ডারের সঙ্গে দ্বিচারিতা করা হলো। কমিটমেন্ট ব্রেক হয়েছে। যে জুলাই সনদে আমরা সই করেছিলাম, সেটা সুপারিশে আসেনি। আমরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “অন্তবর্তী সরকার এভাবে চলতে থাকলে তো আমরা থাকবো না।”
তিনি বলেন, “এত আড়ম্বর করে ঐক্যমতের চার্টার পেশ করলো তাতে ওইটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। অনৈক্যের সৃষ্টি করেছে। বিএনপি উচ্চ কক্ষ গঠনে ভোটের আনুপাতিক হার (পিআর) পদ্ধতির বিরুদ্ধে। আমাদের বক্তব্য ছিল, নিম্নকক্ষে প্রাপ্ত বিজয়ের হিসেবে উচ্চকক্ষ গঠন হবে। আরও অনেক কিছু আপত্তির রয়েছে। দল থেকে বিস্তারিত জানানো হবে।”