জুলাইয়ে শিক্ষার্থী ছায়াদ হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয়বার মামলা, পরিবারের ক্ষোভ

জুলাইয়ে শিক্ষার্থী ছায়াদ হত্যার ঘটনায় দ্বিতীয়বার মামলা, পরিবারের ক্ষোভ

জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঢাকার সাভারে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় শিক্ষার্থী ছায়াদ মাহমুদ (১২)। এ ঘটনায় ওই সময়ে তার বাবা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। সম্প্রতি আবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একই ঘটনায় রফিকুল ইসলাম নামে অপর এক ব্যক্তি ছায়াদের মৃত্যুর তারিখ, সময় ও ঘটনাস্থল ভিন্ন জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। একই ঘটনায় পৃথকভাবে আবারও আদালতে মামলা দায়ের করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের বাবা।

নিহত ছায়াদের বাবা বাহাদুর খান মঙ্গলবার জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা গ্রামে। সাভারের শাহীবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে তার ছেলে ছায়াদ স্থানীয় জাবাইল নুর মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়তো। আন্দোলনের সময় ২০ জুলাই বিকালে বাসা থেকে বের হয়ে সাভারের নিউমার্কেটের পেছনে চাঁপাইন সড়কে গেলে ছায়াদের বাঁ পায়ের উরুতে গুলি লাগে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিনই তার মৃত্যু হয়। এরপর গত বছর ৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ওবায়দুল কাদেরসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়।

তিনি আরও জানান, তার ছেলের মতো একই নামে সিংগাইর এলাকার আর কেউ জুলাই-আগস্টে মারা যায়নি। তিনি ট্রাইব্যুনালেও অভিযোগ করেছেন। অথচ একই ঘটনা দেখিয়ে অন্য কেউ আবার আদালতে মামলা করেছেন। বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ছাড়াও যিনি ভুল তথ্য দিয়ে মামলা করেছেন, তার বিষয়টিও যেন পুলিশ খতিয়ে দেখে বলেও দাবি জানান।

জানা গেছে, পরে আদালতে করা মামলায় বাদীর নাম রফিকুল ইসলাম (৫৬)। তিনি শাহীবাগ এলাকার সোলায়মান মিয়ার ছেলে। তবে নিহত ছায়াদের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক উল্লেখ না করলেও নিজেকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ছাড়াও এই মামলায় ছায়াদের বয়স (২৬)। তবে ঠিকানা ও বাবার নাম ঠিক থাকলেও ঘটনা ১৯ জুলাই এবং আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় ঘটনাস্থল দেখানো হয়। এ ছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২৫ জুলাই মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই ব্যক্তি শেখ হাসিনাসহ ২৫২ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করেছেন।

এসব বিষয়ে জানতে বাদী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন‍্য আশুলিয়া থানায় পাঠিয়েছেন। এ ছাড়াও এই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় কোনও মামলা হয়েছে কিনা আদালত থেকে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।’ 

তবে এই ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে, বিষয়টি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin