কাঁচামরিচের কেজি ৪৫০

কাঁচামরিচের কেজি ৪৫০

 

যশোরে একদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫০ টাকা। টানা বৃষ্টি ও আমদানি বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমার কারণে দাম বেড়ে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, এখন কাঁচামরিচের ট্রানজিশন পিরিয়ড হওয়ায় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রুতই নতুন মরিচ বাজারে আসবে।

শনিবার (৪ অক্টোবর) যশোর শহরের বড় বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি দরে। যা একদিন আগে ছিল ২৮০-২৯০ টাকা।

কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী রানা গাজী জানান, বাজারে এখন দেশি কাঁচামরিচের তীব্র ঘাটতি। পাইকারিতেই মানভেদে ৪৫০-৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে পূর্বে মজুতকৃত মরিচের দাম কিছুটা কম। যদি দ্রুত আমদানি (এলসি) না আসে তবে এই দাম হাজার টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আরেক ব্যবসায়ী দিপু বিশ্বাস বলেন, বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তবে ফসলের ক্ষতি আরও বাড়বে এবং দাম আরও বেড়ে যাবে। যশোরের বাজার এখন পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে মরিচের খেত নষ্ট হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাজার করতে আসা নাসরিন বেগম বলেন, একদিনের মধ্যে দাম কীভাবে দ্বিগুণ হয়ে যায়? ৪০০ টাকা দিয়ে কাঁচামরিচ কেনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব। বাজার মনিটরিং বলে কি কিছু নেই?

গৃহিণী ফাতেমা খাতুন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সবজির বাজারে এমনিতেই হাত দেওয়া যায় না। এখন কাঁচামরিচ যদি ৪০০ টাকা হয়, তাহলে আমাদের মতো গরীব মানুষের সংসার চলবে কীভাবে? সরকারের উচিত দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

এ বিষয়ে বাজার তদারকি কমিটির সদস্য ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, শনিবার সকাল থেকে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে মরিচের দাম কিছুটা বাড়ে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুত করে দাম বাড়িয়েছে কিনা সেটিও তদারকি করা হচ্ছে।

এদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, এ বছর জেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচের চাষ হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রানজিশন পিরিয়ড হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন মরিচ বাজারে আসতে ১৫-২০ দিন সময় লাগবে। তখন মরিচের দাম আবার ৫-১০ টাকা কেজিতে নেমে আসবে।

মিলন রহমান/এমএন/জেআইএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin