কাপ্তাই হ্রদের বুকে এক টুকরো দ্বীপ কাট্টলী

কাপ্তাই হ্রদের বুকে এক টুকরো দ্বীপ কাট্টলী

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের নীলাভ জলরাশির মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক টুকরো সবুজ দ্বীপ—কাট্টলী। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর দ্বীপটি এখন পর্যটকদের কাছে হয়ে উঠেছে শান্তি ও প্রশান্তির অনন্য গন্তব্য। শহুরে কোলাহল ছেড়ে দু’দণ্ড শান্তি পেতে কাট্টলী দ্বীপের জুড়ি নেই। দূরের কালো পাহাড় আর নীল জলের বুকে ছোট্ট দ্বীপ কাট্টলী যেন প্রকৃতির অনন্য বিস্ময়।

দ্বীপে যাওয়ার পথকাট্টলী দ্বীপে পৌঁছাতে হয় নৌকা বা ট্রলারযোগে। রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার থেকে লংগদুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চযোগে যেতে পারেন এখানে। এ ছাড়া ট্রলার ভাড়া করেও ঘুরে আসতে পারবেন কাট্টলী দ্বীপ। হ্রদের বুক চিরে চলতে চলতে দুপাশে বিস্তৃত পাহাড়, মাঝখানে শান্ত ঢেউ যেন প্রকৃতির আঁকা জীবন্ত ছবি। ভ্রমণকারীদের চোখে হঠাৎ করেই ধরা দেয় সবুজে মোড়ানো দ্বীপটি।

শান্তির ঠিকানাদ্বীপের চারপাশে শুধু জল আর জল। শহরের কোলাহল নেই, নেই যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা। চারপাশে পাখির ডাক আর হ্রদের কলকল ধ্বনি মিলেমিশে তৈরি করে অনন্য পরিবেশ। স্থানীয় নৌকার মাঝি আব্দুল মান্নান বলেন, ‘কাট্টলী দ্বীপে গেলে মনটাই শান্ত হয়ে যায়। প্রকৃতির নীরবতায় এখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো যায়।’ দ্বীপটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ছোট একটি বাজার। সাপ্তাহিক হাটবারে এখানে পাহাড়ি ও বাঙালি ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমাগম ঘটে। তৈরি করা হয় বিষমুক্ত নানা রকম শুঁটকি। যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

আরও পড়ুনসিলেটের মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ভ্রমণহামহাম মায়াবী এক জলপ্রপাত

ভিন্ন ঋতুর ভিন্ন রূপশীতকালে পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি হয়। তবে বর্ষায় দ্বীপের সৌন্দর্য অন্য মাত্রা পায়। হ্রদের পানি বেড়ে গেলে দ্বীপ ঘিরে থাকে স্রোতের ধারা, চারপাশে সবুজ আরও গাঢ় হয়ে ওঠে। সূর্যাস্তের সময় দ্বীপ থেকে দেখা পাহাড়ের বুকে লালচে আভা যেন ছবির মতো লাগে। শীতে পরিযায়ী পাখিদের দলবেঁধে ওড়াউড়ি অনন্য দৃশ্যপট তৈরি করে।

পর্যটকদের আকর্ষণঢাকা থেকে আসা ভ্রমণপ্রেমী তুষার কাব্য জানান, ‘আমরা অনেক জায়গায় ঘুরেছি কিন্তু কাট্টলী দ্বীপের মতো শান্ত পরিবেশ আর কোথাও পাইনি। সূর্যাস্তের দৃশ্যটা সত্যিই মুগ্ধকর। জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য, নানা রকম নৌকা ও ট্রলারের ছুটে চলা অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে এখানে।’

প্রকৃতির অমূল্য সম্পদপ্রকৃতি ও নীরবতার এই অপূর্ব সমন্বয়ে কাট্টলী দ্বীপ এখন শুধু রাঙ্গামাটির গর্ব নয় বরং পর্যটন মানচিত্রে সম্ভাবনাময় গন্তব্য। নিসর্গপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি হয়ে উঠেছে ‘হ্রদের বুকে স্বর্গের টুকরো’।

আরমান খান/এসইউ/এএসএম

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin