তীব্র সংঘর্ষের পর মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী কারেন রাজ্যের লে কা কাও শহরের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে। রবিবার তারা থাই-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে অবস্থিত কৌশলগত পাহাড়চূড়া ‘সওয়ে তও গোন’ পুনর্দখল করেছে বলে সরকারি সংবাদমাধ্যম ও ফ্রন্টলাইন সূত্রে জানা গেছে। মিয়ানমারবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইরাবতী এ খবর জানিয়েছে।
কারেন ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (কেএনএলএ) নেতৃত্বাধীন প্রতিরোধযোদ্ধারা ওই পাহাড়চূড়া থেকে সরে গেলে জান্তা বাহিনী পুরো এলাকার দখল নেয়। এখন লে কা কাও শহর, পাহাড়চূড়া ও দক্ষিণের ২ কিলোমিটার দূরের পার্কসহ অধিকাংশ স্থানই সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
লে কা কাও শহরটি ২০১৫ সালে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর বহু রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী এখানে আশ্রয় নেন, যার ফলে এলাকাটি জান্তা বাহিনীর টার্গেটে পরিণত হয়।
গত বছরের অক্টোবর থেকে কেএনএলএ ও তাদের মিত্ররা শহরটির নিয়ন্ত্রণে ছিল। ফ্রন্টলাইন সূত্র জানায়, সওয়ে তও গোন পাহাড়ের নিচের অংশ এখন সেনাদের দখলে, তবে উপরের চূড়ায় কেউ অবস্থান নিচ্ছে না। সেখানে থাকা সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
প্রতিরোধযোদ্ধারা শহরের অপর দিকে সরে গেছে বলে জানা গেলেও তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ করা হয়নি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জান্তা বাহিনী কারেন বর্ডার গার্ড ফোর্স (বিজিএফ) ও বিমান হামলা, কামান এবং আত্মঘাতী ড্রোনের সহায়তায় শহরের পশ্চিমাংশে ব্যাপক অভিযান চালায়।
এক বছর আগে কেএনএলএর হাতে যাওয়ার আগে সওয়ে তও গোন ছিল সেনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি, যেখান থেকে নির্বিচারে গ্রামগুলোতে গোলাবর্ষণ চালিয়ে বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছিল।
সূত্র জানায়, লে কা কাওয়ের দক্ষিণ-পূর্বে মিনলেটপান গ্রামে বর্তমানে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। গত বুধবার থেকে সেখানে প্রতিরোধগোষ্ঠীগুলো জান্তা বাহিনীর অগ্রগতি ঠেকানোর চেষ্টা করছে।
সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে মিয়ানমার সেনা মিয়াবতী শহর থেকে দক্ষিণ দিকে অভিযান চালিয়ে আসছে। তারা আগামী ২৮ ডিসেম্বর ওই অঞ্চলে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তিনটি জান্তা-সমর্থিত কারেন গোষ্ঠী নির্বাচনে নিরাপত্তা সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
একজন কারেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, লে কা কাও পুনর্দখল করেই জান্তা তাদের নির্বাচনি লক্ষ্য পূরণ করেছে। আরও সেনা পাঠিয়ে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অগ্রসর হওয়ার রাজনৈতিক লাভ খুব একটা নেই।
মানবিক ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, লে কা কাও ও আশপাশের গ্রাম থেকে অন্তত ৩ হাজার মানুষ থাই সীমান্তের মই নদীর কাছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে গেছে।
ওই বিশ্লেষক বলেন, বাসিন্দারা যখন এখনও বাস্তুচ্যুত অবস্থায়, তখন জান্তা কীভাবে লে কা কাওয়ে ভোট আয়োজন করবে, তা স্পষ্ট নয়।