কার্ক হত্যার মূল সন্দেহভাজন রবিনসনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন কৌঁসুলিরা

কার্ক হত্যার মূল সন্দেহভাজন রবিনসনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন কৌঁসুলিরা

যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন টাইলার রবিনসন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভিডিও লিংকের মাধ্যমে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। এটাই তাঁর প্রথম শুনানি। এতে কৌঁসুলিরা তাঁর মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং রক্ষণশীল যুব রাজনৈতিক গ্রুপ টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর প্রতিষ্ঠাতা কার্ককে ১০ সেপ্টেম্বর গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় তিনি ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে এক বিতর্ক অনুষ্ঠান বক্তৃতা দিচ্ছিলেন।

৩১ বছর বয়সী কার্কের হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশটির জনমত ব্যাপকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। প্রতিশোধের স্পৃহা তৈরি করেছে।

ভিডিওতে রবিনসনকে আত্মহত্যা প্রতিরোধী বিশেষ ধরনের পোশাক পরতে দেখা গেছে। সাধারণত আলোচিত হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের এভাবে আদালতে হাজির করা হয়।

শুনানিতে ডিস্ট্রিক্ট বিচারক টনি গ্রাফ রবিনসনের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ পড়ে শোনান। রবিনসনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তিনি নিজের নাম বলে পুরোটা সময় চুপ ছিলেন। ২৯ সেপ্টেম্বর রবিনসনের পরবর্তী মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

রবিনসনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে গুরুতর হত্যাকাণ্ডের (অ্যাগ্রাভেটেড মার্ডার) অভিযোগ সবচেয়ে শক্তিশালী। অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি এবং সাক্ষীকে প্রভাবিত করার চেষ্টা অন্যতম। 

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইউটা কাউন্টির অ্যাটর্নি জেফ গ্রে বলেন, ‘আমি (রবিনসনের) মৃত্যুদণ্ডের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি খেয়ালি মনে এই সিদ্ধান্ত নিইনি। কাউন্টি অ্যাটর্নি হিসেবে এটি আমার স্বাধীন সিদ্ধান্ত, যা বিদ্যমান প্রমাণ, পরিস্থিতি এবং অপরাধের প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।’

অ্যাটর্নি জেফ গ্রের সংবাদ সম্মেলন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজ চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। এতে প্রথমবারের মতো কার্ককে হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু আভাস পাওয়া গেছে।

গ্রে জানান, রবিনসন ও তাঁর রুমমেটের মধ্যে দীর্ঘ খুদেবার্তা বিনিময় হয়েছিল। তিনি রবিনসনের রুমমেটকে ‘একজন জৈবিক পুরুষ, যিনি লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় ছিলেন’ বলে উল্লেখ করেছেন। গ্রে আরও বলেন, রবিনসন ও ওই রুমমেটের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

গ্রে বলেন, হত্যাকাণ্ডের দিন রবিনসন তাঁর রুমমেটকে খুদেবার্তায় লিখেছিলেন, তাঁর কিবোর্ডের নিচে একটি নোট রাখা আছে। সেই নোটে লেখা ছিল, ‘আমার কাছে চার্লি কার্ককে শেষ করে দেওয়ার সুযোগ এসেছে আর আমি সেটা করতে যাচ্ছি।’

এদিকে বার্তালাপের একপর্যায়ে নাম প্রকাশ না করা ওই রুমমেট রবিনসনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কেন তিনি কার্ককে হত্যা করেছেন?

তখন জবাবে রবিনসন লিখেছিলেন, ‘আমি তাঁর ঘৃণা আর সহ্য করতে পারিনি। কিছু ঘৃণা কখনো আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলা যায় না।’

এরপর রবিনসন রুমমেটকে ওই বার্তালাপ মুছে ফেলাতে বলেছিলেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

শাটডাউন আলোচনা ব্যর্থ হলে সরকারি কর্মীদের গণহারে ছাঁটাইয়ের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের Prothomalo | যুক্তরাষ্ট্র

শাটডাউন আলোচনা ব্যর্থ হলে সরকারি কর্মীদের গণহারে ছাঁটাইয়ের হুমকি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের ব্যাপক হারে ছাঁটাই করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে হোয়াইট হাউ...

Oct 06, 2025
দুই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই শুরু: হোয়াইট হাউস Prothomalo | যুক্তরাষ্ট্র

দুই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই শুরু: হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল কর্মীদের ব্যাপকভাবে ছাঁটাই ‘আসন্ন’ এবং তা দুই দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে বলে জা...

Oct 02, 2025

More from this User

View all posts by admin