টঙ্গীর দুইটি পোশাক কারখানা সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড এবং মিফকিফ অ্যাপারেল লিমিটেড বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে রাজধানীর বিজয়নগরে শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা।
সোমবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকেই সেখানে জড়ো হন কয়েকশ শ্রমিক। তারা জানান, কোনও ধরনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করেই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ।
কিন্তু এখনও তাদের চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। তাই তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। এ সময় তারা শ্রম ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শ্রম ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
সোমবার দুপুর ২টায় শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আক্তারের আশ্বাসে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় এ বিষয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসবেন অতিরিক্ত সচিব।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শ্রমিক সুমি আক্তার বলেন, আমরা ছয় মাস ধরে বেকার অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। সিজন্স ড্রেসেসের মালিক শ্রম আইন ও চুক্তি ভঙ্গ করে আমাদের এক টাকাও পরিশোধ করেনি। শ্রম ভবনে বহুবার আসার পরও সরকারের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজ আমরা বাধ্য হয়ে আবারও রাস্তায় নেমেছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কারখানাটি গত ২৮ মে কোনও লিখিত নোটিশ ছাড়াই বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৮)–এর ধারা ২৬(১) এবং ধারা ২০(২) সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম বলেন, বন্ধ হওয়া দুটি কারখানা— সিজন্স ড্রেসেস লিমিটেড ও মিপকিফ অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকরা চূড়ান্ত পাওনার দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন করে আসছেন। এ নিয়ে সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে তারা একাধিকবার লিখিত দরখাস্ত দিয়েছেন, কিন্তু আজও এর সমাধান হয়নি। তিনি সরকারের শ্রম অসন্তোষ নিরসন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করে দ্রুত পাওনা পরিশোধের অনুরোধ জানান।