রাজধানীর তুরাগ থানাধীন কাশবনের ভেতর ক্লাস সহকারী বিথী আক্তার ওরফে বিলকিসের অর্ধগলিত লাশ পাওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় নিহতের স্বামী বাবুল মিয়াসহ দুই জন আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট পার্থ ভদ্র ও মেহেদী হাসানের আদালত এ জবানবন্দি রেকর্ড করেন। অপর আসামি হলেন মো. সম্রাট (২০)।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তুরাগ থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তাদের জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। পরে আদালত উভয়ের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, পারিবারিক কলহের কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আসামিরা হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করি।
শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাত ৭টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর পল্লবী থেকে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়।
মেয়ের খুনের ঘটনায় গতকালই রাজধানীর তুরাগ থানায় মামলাটি করেন নিহতের মা মনোয়ারা বেগম (৫০)।
মামলার অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার মেয়ে বিথী আক্তার ওরফে বিলকিস (৩৭) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন গ্যারিশন এলাকার প্রয়াস স্কুলে ক্লাস সহকারী হিসাবে চাকরি করতেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসা থেকে জরুরি কাজে ইসিবি চত্ত্বরের মিনা বাজারে যাওয়ার কথা বলেন। অনেক সময় পার হওয়ায় রাত ৯টা ২০ মিনিটে মেয়ের নম্বরে কল দিয়ে বন্ধ পান। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে পর দিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় গিয়ে একটি নিখোঁজ জিডি করেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর তুরাগ থানাধীন রাজউকের ১৭নং সেক্টরের খেলার মাঠের পাশের কাশবনের ভেতর এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ পাওয়ার কথা শোনেন। পরে তুরাগ থানায় গিয়ে অর্ধগলিত চেহারার মাধ্যমে পরিচয় বোঝা না গেলে হিজাব, লাল রঙয়ের বলপ্রিন্টের গেঞ্জি ও কালো রংয়ের প্লাজো দেখে চিনতে পারেন।