ভাবটা এমন ছিল, আফগানিস্তানের বিপক্ষে চার পরিবর্তন করে মাঠে নেমে জিতেছি, এবার ভারতের বিপক্ষেও সেই পথে হেঁটে জিততে চাই। কিন্তু আফগানিস্তান আর ভারত যে এক দল নয়, দুই দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক যে এক নয়, ভারতীরা অনেক বেশি দুরদর্শী, কৌশলী। তাদের বিপক্ষে একঝাঁক পরিবর্তন ঘটালেই কি সাফল্যের দেখা মিলবে? বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্টের চিন্তায় মনে হয় তা ছিল না।
এখন প্রশ্ন হলো, আজ পাকিস্তানের সাথে অঘোষিত সেমির যুদ্ধেও কি গতকালের মত অনেকগুলো পরিবর্তন ঘটিয়ে এক বলগাহীন দল সাজানো হবে? অনেকেরই মত, ভারতের বিপক্ষে যে দল খেলেছে, সে দলে একটা বড়সড় পরিবর্তনের দরকার আছে।
ধারনা করা হচ্ছে, সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত অধিনায়ক লিটন দাস আর এক নম্বর স্ট্রাইকবোলার তাসকিন হয়ত একাদশে ফিরবেন। সাইফউদ্দীন, না শেখ মেহেদী কে খেলেন? সেটাও দেখার।
ভারতের দুই প্রধান উইলোবাজ অভিষেক শর্মা আর তিলক ভার্মা দুজনই বাঁ-হাতি। একজন ভারতীয়দের এক নম্বর ওপেনার। আর তিলক ভার্মা মিডল অর্ডারের কান্ডারি। এদের বিপক্ষে একজন ডানহাতি অফস্পিনার হতে পারতেন ঢাল। আর সবার জানা, শেখ মেহেদী বরাবরই বাঁহাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে ভাল বল করেন। বাঁ-হাতিদের বিপক্ষে তার ট্র্যাক রেকর্ডও ভাল।
কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর দুবাইতে ভারতের সাথে শেখ মেহেদী নামক সেই ঢাল ছাড়াই মাঠে নামলো টিম বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সাথেও শেখ মেহেদী হতে পারেন ট্রাম্প কার্ড। ফাখর জামান, সাইম আইয়ুব, হোসাইন তালাত আর মোহাম্মদ নওয়াজ- চার চারজন বাঁহাতি ব্যাটার। তাদের বিপক্ষে একনজন ডানহাতি অফস্পিনার না খেলানো হবে চরম অদুরদর্শিতা।
সেক্ষেত্রে কি করবে আজ টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট? আগের ম্যাচে খুব ভাল বোলিং করেছেন অপর স্পিনার রিশাদ হোসেন (৩ ওভারে ২/২৭)। তাকে বাদ দেয়ার কোনই সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে ভারতের বিপক্ষে একদমই সুবিধা করতে না পারা সাইফউদ্দীনকে (৩ ওভারে ১/৩৭) বাদ দিয়ে শেখ মেহেদীকে খেলানো হতে পারে।
ওদিকে অধিনায়কত্ব নিয়েও আছে রাজ্যের কথা বার্তা। সাইড স্ট্রেইনের কারনে খেলতে না পারা অধিনায়ক লিটন দাসের বদলে দল পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হলো জাকের আলী অনিককে। ভারতের সাথে স্মায়ুযুদ্ধে জাকের আলী অনিকের ওপর দিয়ে দেয়া হলো ব্যাটার, কিপার ও ক্যাপ্টেনের চাপ। জাকের আলী অতবড় চাপ নিতেও পারেননি।
ভারতের বাঁহাতি ওপেনার অভিষেক শর্মার গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ফেলার চরম মূল্য দিয়েছেন কিপার জাকের আলী। পেসার তানজিম সাকিবের বলে অফস্ট্যাম্পের ঠিক বাইরে পরাস্ত হয়েছিলেন অভিষেক। বল তার ব্যাটের ওপরের দিকের বাইরের অংশ ছুঁয়ে চলে যায় উইকেটের পিছনে। জাকের আলী তা বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে পরে গ্লাভসে নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি। জীবন পাওয়া অভিষেক শর্মা খেলে ফেলেন ৩৭ বলে ৭৫ রানের ঝড়ো ইনিংস।
এরপর অধিনায়ক জাকের আলীও বোলার ব্যবহারে রাখলেন অদক্ষতার ছাপ। দুটি ভাইটাল ব্রেক নেবার পরও ৪ ওভারের কোটা পূরণ করতে দিলেন লেগি রিশাদকে। একইভাবে ২ ওভারে ৭ রান দেয়ার পরও অফস্পিনার সাইফকে অফ করে দিয়েছেন।
সবশেষে ব্যাট হাতে ৬ নম্বরের মত গুরুত্বপূর্ণ পজিসনে নেমে জাকের আলী অনিক ৫ বলে ৪ রানে রান আউট হলেন। লিটন সুস্থ হয়ে দলে ফিরলে কথাই নেই। কিন্তু কোন কারণে তার পক্ষে খেলা সম্ভব না হলে অবশ্যই দল পরিচালনার ভার দেয়া উচিৎ নুরুল হাসান সোহানের ঘাড়ে।
সোহান অভিজ্ঞ। এ বহরে বয়সেও সবার সিনিয়র। লিটন দাস, তাসকিন ও মোস্তাফিজ সবাই তার বয়সে ছোট। তাছাড়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও বিপিএল, এনসিএল, বিসিএলের পাশাপাশি গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি আসরেও সোহানের নেতৃত্বে রংপুর রাইডার্স ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এবারো রানার্সআপ হয়ে ফিরেছে। কাজেই সোহানের দল পরিচালনার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। মিডল লেট অর্ডারে সোহানের কার্যকরিতা, দক্ষতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতাও বেশি। তাকে বিবেচনা করা যেতেই পারে।
এআরবি/আইএইচএস