কেনিয়ার নাইরোবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হাজারো শোকাহত জনতার ভিড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) ওই বিমানবন্দরে বর্ষীয়ান বিরোধী নেতা রাইলা ওডিঙ্গার মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। মৃতদেহকে শ্রদ্ধা জানাতেই বিমানবন্দরে জনতার ঢল নামে। এসময় আশপাশের সড়কগুলোতেও ভিড় জমে। এমনকি তারা সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টাও করে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কেনিয়ার রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ওডিঙ্গা একসময় রাজনৈতিক বন্দি ছিলেন। তিনি পাঁচবার প্রেসিডেন্ট পদে ব্যর্থভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বুধবার ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে তিনি মারা যান।
ওডিঙ্গার স্মরণে তার সমর্থকরা যখন রাস্তায় নেমে আসে, তখন প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা সামরিক মর্যাদায় তার মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।
রয়টার্সের একজন প্রতিবেদক ও ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিমান থেকে কফিন নামানোর সময় বহু শোকাহত মানুষ—যাদের কেউ কেউ মোটরবাইকে ছিলেন এবং কেউ ডালপালা ও পতাকা নাড়াচ্ছিলেন—বিমানবন্দরের এয়ারসাইড এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং অনুষ্ঠানের একটি অংশে বিঘ্ন ঘটায়।
পরে জনতা বিমান থেকে কিছুটা পিছিয়ে যায়। তবে এই বিশৃঙ্খলার কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম দুই ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হয়।
কিছু ওডিঙ্গা সমর্থক সংসদ ভবনের গেটের ওপর উঠে পড়ে, যেখানে সরকার তার মরদেহ সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য রাখার পরিকল্পনা করেছিল। পরে তার দল জানায়, ওই স্থানের পরিবর্তে মরদেহ প্রদর্শনের আয়োজন করা হবে নাইরোবির একটি ক্রীড়া স্টেডিয়ামে।
যদিও ওডিঙ্গা মূলত বিরোধী নেতার ভূমিকায় পরিচিত ছিলেন। তিনি ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন এবং গত বছর রুটোর সঙ্গে রাজনৈতিক চুক্তিও করেন— যা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরিবর্তনশীল জোটের আরেকটি অধ্যায়।
তিনি পশ্চিম কেনিয়াভিত্তিক লুয়ো জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর ভালোবাসা ও আনুগত্য অর্জন করেছিলেন, যাদের অনেকে বিশ্বাস করেন যে ওডিঙ্গা নির্বাচনি জালিয়াতির কারণে প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি।