আফ্রিকার প্রভাবশালী রাজনীতিক ও কেনিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা রাইলা ওডিঙ্গা ভারতের কেরালায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার সকালে কেরালার এরনাকুলামের দেবমাথা হাসপাতালে ওডিঙ্গার মৃত্যু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
কেরালার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণন এম বলেন, সকালে হাঁটার সময় ওডিঙ্গা হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার সঙ্গে তখন মেয়ে, বোন, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ভারত-কেনিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন। তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু বাঁচানো যায়নি।
রাইলা ওডিঙ্গার মৃত্যুর খবর তার কার্যালয় থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের স্থানীয় সংবাদপত্র মাতৃভূমি জানিয়েছে, কেরালার কোচি শহরে কয়েক সপ্তাহ ধরে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো রাজধানী নাইরোবির কারেন এলাকার ওডিঙ্গা পরিবারের বাসায় গিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শত শত সমর্থক কাঁদতে কাঁদতে ফুল ও ডালপালা হাতে নিয়ে সেখানে জড়ো হন। অনেকেই তাকে ‘বাবা’ নামে সম্বোধন করতেন।
১৯৪৫ সালে কেনিয়ার প্রথম ডেপুটি প্রেসিডেন্টের পরিবারে জন্ম ওডিঙ্গার। তরুণ বয়সে বামপন্থি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন তিনি। তার প্রথম ছেলের নাম রাখেন কিউবান নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর নামানুসারে ‘ফিদেল’। ১৯৮২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল মোইবিরোধী অভ্যুত্থানের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস, নির্যাতন ও নির্বাসনের মধ্য দিয়ে তিনি পরিণত হন কেনিয়ার গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে।
১৯৯২ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ওডিঙ্গা। এরপর ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচবার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু প্রতিবারই পরাজিত হন। তিনি দাবি করতেন, তাকে প্রতিবার নির্বাচনি জালিয়াতির মাধ্যমে হারানো হয়েছে।
২০০৭ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর তার নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে দেশজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, এতে প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন নিহত ও লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। ২০১৭ সালের নির্বাচনের ফল বাতিল করে কেনিয়ার সুপ্রিম কোর্ট পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। ওডিঙ্গা অভিযোগ তুলে নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান।
ওডিঙ্গার আন্দোলনের ফলেই ১৯৯১ সালে কেনিয়ায় বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ২০১০ সালে নতুন সংবিধান প্রণীত হয়। রাজনীতিতে তার ভূমিকা ও জনপ্রিয়তার কারণে তাকে ‘আগোয়াম্বো’ বা ‘রহস্যময় মানুষ’ নামেও ডাকা হতো।
গত মার্চে প্রেসিডেন্ট রুটোর সঙ্গে এক চুক্তিতে তার দল আজিমিও লা উমোজা সরকারে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। এ সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে তাকে বাস্তববাদী নেতা হিসেবেই দেখা হচ্ছিল।