কেউ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে: সালাহ উদ্দিন আহমেদ

কেউ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে: সালাহ উদ্দিন আহমেদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণের পর থেকেই নির্বাচন বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা চলছে। তবে কেউ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। কারণ ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে ১৬ বছরে আমরা অনেক লড়াই করেছি। 

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মের ভিত্তিতে জাতির মধ্যে বিভাজন ও অনৈক্য সৃষ্টি করতে চায়। তারা বিভিন্ন ধরনের ইস্যু সৃষ্টি করে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। আমরা স্পষ্ট বলতে পারি, দেশে এখন নির্বাচনি আমেজ বিরাজ করছে। মানুষ ভোটের প্রচারে নেমে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরাও গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন ইস্যু সৃষ্টি করে যারাই নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে, জনগণ তাদের চিহ্নিত করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শক্তি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ব্যবহার করেছে। সেখান থেকে সবাইকে বের হয়ে আসতে হবে। আমরা কোনও সম্প্রদায় নই। সবাই যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে চর্চা করবে। বিএনপি মনে করে ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। সেটাই আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, দুর্গাপূজা শুধু উৎসবই নয়, অসুরের শক্তি বিনাশের একটি লড়াই। শুভ শক্তি, শান্তি, সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার একটি বার্তা। দীর্ঘ ১৬ বছর বাংলাদেশে অশুভ শক্তি ফ্যাসিবাদী অসুরের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। লড়াইয়ের মাধ্যমে অসুরের বিদায় হয়েছে। তবে আমি মনে করি এখনও বিনাশ হয়নি। তাই এখন ঐক্য, শান্তি ও একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সময়। যা হবে সাম্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে। 

তিনি আরও বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যৌক্তিক দাবিগুলো নির্বাচনি ইশতেহারে যুক্ত করবে বিএনপি। দেবোত্তর ও অর্পিত সম্পত্তির বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণ করে সেগুলো উদ্ধার করে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া যায় কিনা তা ইশতেহারে তুলে ধরবো। এ বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের সঙ্গে আবারও আলাপ করা হবে। তাছাড়া সংখ্যালঘু কমিশন এবং ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা যায় কিনা, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে। 

সালাহ উদ্দিন বলেন, আমরা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা পাহাড়ি সব নাগরিকের সমন্বয়ে রাজনীতি করি। এই পন্থাকেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করি। তাই বিএনপি ধর্মের ভিত্তিতে জাতির মধ্যে বিভক্তি চায় না। কখনও ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করতে চায় না। আমরা সবাইকে নাগরিক হিসেবেই মূল্যায়ন করতে চাই। তাই সংবিধানে থাকা নাগরিক অধিকার কার্যকর হওয়াই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। কারণ আমাদের সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য নেই।

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান ও পূজায় দলীয় নেতাকর্মীদের পাহারাদারের ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। কারণ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য বিভিন্ন অপচেষ্টা চলছে। তবে অতীতের মতো আগামীতেও কোনও ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলে এই নেতা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর। 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin