দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে খাদ্যগুদাম থেকে ১ কোটি ৭১ লাখ টাকার সরকারি চাল ও খালি বস্তা আত্মসাতের অভিযোগে খাদ্য বিভাগের উপপরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার বিকেলে দুদকের দিনাজপুর কার্যালয়ে এই মামলা করেন দুদকের একই কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন।
মামলার আসামিরা হলেন ডুগডুগি এলএসডির উপপরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) আনোয়ারা বেগম, ঘোড়াঘাট উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক ইউনুস আলী মণ্ডল, খাদ্যগুদামের নিরাপত্তা প্রহরী (বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত) মফিজুল ইসলাম ও কুলি সর্দার শাহিনুর আলম।
এ বিষয়ে দুদকের দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ইসমাইল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ডুগডুগি এলএসডিতে ১ কোটি ৭১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ টাকার সরকারি চাল ও খালি বস্তা আত্মসাতের অভিযোগে রোববার বিকেলে চারজনকে আসামি করে দুদকে একটি মামলা হয়েছে।
গত বছরের ৮ মে প্রথম আলোতে ‘গুদাম থেকে ১০ হাজার বস্তা চাল আত্মসাৎ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে দুদকের দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের একটি অনুসন্ধানী দল খাদ্যগুদামে চাল ও বস্তা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে কাজ শুরু করে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একটি অনুসন্ধানী তদন্ত করে দুদক। পরে দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা গত জানুয়ারি মাসে দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রায় ৭ মাস পর ১৮ সেপ্টেম্বর ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুদকে মামলার অনুমোদন দেয় দুদকের প্রধান কার্যালয়। রোববার বিকেলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে আসামি করে মামলা হয়।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ঘোড়াঘাট উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক ইউনুস আলী মণ্ডল, ডুগডুগি এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম, নিরাপত্তা প্রহরী মফিজুল ইসলাম ও কুলি সর্দার শাহিনুর আলম পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ও বিশ্বাসভঙ্গ করে প্রতারণার মাধ্যমে ১ কোটি ৭১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। জড়িতরা দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অপরাধ করেছেন মর্মে অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।