ভারতের এক কর্মী ছোট একটি স্টার্ট আপ কোম্পানিতে নিজের আড়াই বছরের জঘন্য অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। চুক্তির অর্ধেক পারিশ্রমিকে দ্বিগুণ পরিশ্রম করেও প্রতিষ্ঠানের অর্থ সাশ্রয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত ছাঁটাই হয়েছেন তিনি।
রেডিট পোস্টে তিনি লিখেছেন, এমনও দিন গেছে, যখন তিনি ১৫ ঘণ্টা কাজ করেছেন। সাপ্তাহিক ছুটি যে কতবার বাতিল হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। মাসিক ৫০ হাজার রূপি বেতনও পারফরম্যান্সের অজুহাতে ৩০ হাজারে নামিয়ে আনা হয়।
তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তিনি লিখেছেন, প্রথম দুবছর আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আড়াই বছরের মাথায় পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে। একে একে দলের সবাই চাকরি ছাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত কেবল দুজন টিকে ছিলাম।
যতই শ্রম দেওয়া হোক, কিছুতেই ঊর্ধ্বতনদের মন জয় করতে পারছিলেন না বলে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, আমি দিনে ১৫ ঘণ্টা করেও কাজ করেছি, অনেক সময় ছুটির দিনেও। তারপরও আমাকে বলা হতো, আমি পর্যাপ্ত শ্রম দিচ্ছি না। অফিসিয়াল মিটিংয়ে কাজের কথার চেয়ে তর্ক হতো বেশি। না পাচ্ছিলাম কোনও দিক নির্দেশনা, না সম্মান। কেবল ছিল অস্বাভাবিক চাপ।
তিনি বলেছেন, যে কাজে কয়েকমাস সময় প্রয়োজন, তা দুসপ্তাহে শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হত। তিনি কেবল দাঁতে দাঁত চেপে তিন বছর পার করতে চাচ্ছিলেন, কেননা সেক্ষেত্রে তিনি এককালীন একটা অর্থ পেতেন।
তবে নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগে তাকে ছাঁটাই করে দেওয়া হয়। একঘণ্টা কাজ না করে বসে থাকার অজুহাতে তাকে বিনা নোটিশে বরখাস্ত করা হয়।
পরে অবশ্য তার ম্যানেজার নাকি স্বীকার করেছিলেন, এককালীন অর্থ প্রদান যে কোনও মূল্যে এড়াতে মালিকপক্ষের দিক থেকে চাপ ছিল।
কোনও প্রতিষ্ঠানে যোগদানের আগে সবাইকে ভেবেচিন্তে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, আমি কতোটা প্রতারিত অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। জীবনের প্রায় তিনটা বছর খেয়ে না খেয়ে, রাতের ঘুম নষ্ট করে, স্বাস্থ্যের বারোটা বাজিয়ে শ্রম দিয়ে গেলাম। অথচ তাদের কাছে যখন আমার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেল, অর্থ সাশ্রয়ের নামে আমাকে ঝেড়ে ফেলতে কেউ দুবার চিন্তাও করেনি।
তার পোস্টের কমেন্টে সহমর্মিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অবিচারের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ব্যবহারকারীরা। একজন লিখেছেন, এ ধরনের এক প্রতিষ্ঠানে আমিও যোগ দিয়েছিলাম। তবে বেতন নিয়ে ধানাইপানাই করার সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিয়েছি।
আরেকজন লিখেছেন, সক্রিয় মানবসম্পদ বিভাগ না থাকলে সে সব প্রতিষ্ঠানে কাজ করাই উচিত না।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি