কলকাতার ভারী বর্ষণ ও অপ্রতুল ড্রেনেজ ব্যবস্থা শহরের পুজো মণ্ডপগুলোকে জলমগ্ন করেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে প্রতিমা, বাঁশের কাঠামো ও সাজসজ্জা ক্ষতির মুখে। মণ্ডপ কমিটিগুলোর দাবি, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না নিলে পুজোর প্রস্তুতি ব্যাহত হবে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। প্রশাসন ইতোমধ্যে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে। এবারের পরিস্থিতি কলকাতার দুর্গাপুজোর আনন্দকে হুমকির মুখে ফেলেছে, কিন্তু দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পুজো স্বাভাবিকভাবে উদযাপিত হতে পারবে।
বাগুইআটির অর্জুনপুরের আমরা সবাই এবারের অন্যতম বড় পুজোগুলোর একটি। ইতোমধ্যে ভিড় জমতে শুরু করেছিল সেই মণ্ডপে। উদ্যোক্তাদের তরফে মৌসুমি নস্কর বলেন, আমাদের মণ্ডপের বিশেষ ক্ষতি হয়নি। বিদ্যুৎ বা আলোকসজ্জাও অটুট। তবে যা বৃষ্টি হয়েছে, তাতে রাস্তাতে তো জল জমেছে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68d3bec92d2bd" ) );
তবে একরাশ উদ্বেগ নিয়ে দেশপ্রিয় পার্কের উদ্যোক্তা সুদীপ্ত কুমার বলছেন, পুজোয় বৃষ্টি দেখেছি। কিন্তু এমন বৃষ্টি কখনও দেখিনি। মণ্ডপে হয়তো জল নেই। কিন্তু মাঠে জল, রাস্তায় জল। কিছু কাজ বাকি ছিল, সে কাজে মঙ্গলবার হাত দেওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জানি না এর পরে কী হবে।
একই প্রশ্ন উত্তর কলকাতার চোরবাগান বারোয়ারির জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তিনি বলেন, বিদ্যুতের সব ডিপি বক্স জলের তলায়। এমন অবস্থায় কী করে কাজ হবে। মাঠের জল কিছুটা নেমেছে। কিন্তু রাস্তাসহ চারদিকে এখনও জল। আমাদের কাজ প্রায় শেষ হয়ে গেছিল। ৪০ জন কারিগর বাড়ি চলে গেছেন। এখন আবার তাদের কী করে আনব। ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68d3bec92d314" ) );
মুদিয়ালি পার্কের মনোজ সাউ বলেন, আমাদের মাঠ বা মণ্ডপের কোনও ক্ষতি না হলেও সামনের গেটটি ভেঙে পড়েছে। কাজও বন্ধ রয়েছে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে উদ্বোধনও।
রাজডাঙা নব উদয় সঙ্ঘের পুজো দক্ষিণের অন্যতম আকর্ষণ। উদ্যোক্তা সুশান্ত ঘোষ বলেন, বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিলই। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি ছিল বলে মণ্ডপের ক্ষতি ততটা হয়নি। কিন্তু রাস্তায় যেভাবে জল রয়েছে, তাতে দর্শক না এলে মন খারাপ তো হবেই।
চেতলা অগ্রণীর উদ্যোক্তা সমীর ঘোষের কথায়, বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে গঙ্গার জোয়ারের জল জমে গিয়েছিল রাস্তায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সেই জল অনেকটা নেমে যায়। মণ্ডপের কোনও ক্ষতি হয়নি।
ত্রিধারা সম্মিলনীর গার্গী মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের প্যান্ডেল রাস্তার উপরে তৈরি হয়। ফলে বৃষ্টিতে খুব একটা ক্ষতি হয়নি।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68d3bec92d36f" ) );
ক্ষতি হয়েছে কলকাতার প্রতিমা তৈরির সবচেয়ে বড় এলাকা কুমোরটোলির। মঙ্গলবার সকাল থেকে জলমগ্ন কুমোরটুলির সরু অলিগলি। সোমবার প্রবল বর্ষণের জেরে কুমোরটুলির প্রতিমাশিল্পী মালা পালের স্টুডিওতে ঢুকে গিয়েছে জল, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গা প্রতিমা। তিনি জানিয়েছেন, আজ কোনও প্রতিমা ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমার স্টুডিওতে জল ঢুকে একটি প্রতিমা নষ্ট হয়ে গেছে, সেটা আবার নতুন করে বানাতে হবে। আজই সেটা এক বাড়ির পুজোয় পাঠানোর কথা ছিল।
কাজের ফাঁকে ফাঁকেই তিনি প্রতিমা মেরামতির কাজ করছেন জোরকদমে। কলকাতার রাস্তায় যখন জল জমে যানচলাচল বিপর্যস্ত, তখন কুমোরটুলির গলিতে হাঁটাচলাই প্রায় অসম্ভব।
কুমোরটুলির অপর এক মৃৎশিল্পী কার্তিক পাল বলেন, আজ সকালে ডেলিভারি বন্ধ রাখতে হয়েছে। আমরা পুজো কমিটিগুলোকে আজ আসতে নিষেধ করেছি। প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার জন্য কোন কুলিও পাওয়া যাচ্ছে না, চারপাশে শুধু জল। সোমবার গভীর রাতে কিছু শিল্পী প্লাস্টিক মুড়ে প্রতিমা পাঠাতে পেরেছিলেন, কিন্তু একবার জল ঢুকে পড়ার পর থেকে আর কিছু করা সম্ভব হয়নি।