যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আলোচনা চালিয়ে যাবে থাইল্যান্ড। শনিবার (১৫ নভেম্বর) থাইল্যান্ডের এক সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, আলোচনাগুলো কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের বিষয় থেকে আলাদা থাকবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
এর আগে ব্যাংকক বলেছিল, কম্বোডিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে থাই সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত না করা পর্যন্ত ওয়াশিংটন আলোচনা স্থগিত করেছে।
তবে থাই সরকারি মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত এক বিবৃতিতে বলেন, শুক্রবার রাতে থাই প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চর্ণভিরাকুল ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনালাপের আগেই এই সাময়িক স্থগিতাদেশ কার্যকর হয়।
সিরিপং বলেন, ‘শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনা চলতে থাকবে এবং সীমান্ত ইস্যু থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প অনুতিনকে জানিয়েছেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার অধীনে থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করতে চায় না।
গত মাসে ওয়াশিংটন ও ব্যাংকক পারস্পরিক বাণিজ্যের জন্য একটি কাঠামো ঘোষণা করে, যাতে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্র থাই পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক বজায় রাখবে এবং এমন কিছু পণ্য শনাক্ত করা হবে যেখানে শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দফতর থেকে প্রাপ্ত একটি চিঠিতে বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত চূড়ান্ত করার আলোচনাগুলো স্থগিত থাকার কথা জানানো হয়—বিষয়টি শুক্রবার রাতে পাওয়া গেছে বলে আগে সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিকোর্নদেজ বালানকুরা।
তিনি বলেন, ইউএসটিআর–এর চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সঙ্গে যৌথ যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেই আলোচনা আবার শুরু হতে পারে।
চুক্তি কার্যকর হওয়ার আগে দুই পক্ষকে বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা ও চূড়ান্ত করতে হবে এবং স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।
এই সপ্তাহে সীমান্ত উত্তেজনা পুনরায় বেড়ে যাওয়ার পর শুক্রবার রাতে ট্রাম্প থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বলেন যে তারা ‘সম্ভবত ঠিক থাকবে’।
এই সপ্তাহে থাইল্যান্ড যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্থগিত করে এবং অভিযোগ করে যে কম্বোডিয়া নতুন করে ল্যান্ডমাইন পুঁতেছে, যাতে থাই সৈন্য আহত হয়েছে—যা কম্বোডিয়া অস্বীকার করে।
ট্রাম্প কথিত ইউএসটিআর–এর চিঠি—যেখানে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিতের কথা বলা হয়েছিল—এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। ইউএসটিআর বা হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ ছিল না।
ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর ফেসবুকে অনুতিন বলেন, তিনি থাই পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক কমানোর অনুরোধ করেছেন।
অনুতিন বলেন, ট্রাম্প তাকে জানিয়েছেন যে এটি ইতিমধ্যে ‘নিম্ন হার’। তবে কম্বোডিয়া সীমান্তে ল্যান্ডমাইন অপসারণ দ্রুত সম্পন্ন হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।