কন্যাশিশু বড় হোক আত্মবিশ্বাস নিয়ে

কন্যাশিশু বড় হোক আত্মবিশ্বাস নিয়ে

এখনও বাংলাদেশে ৫০ থেকে ৫৩ শতাংশ কন্যাশিশু ১৮ বছরের আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হয়। ১৫ বছরের কম বয়সে বিয়ে হওয়া মেয়েদের শতাংশ বাড়ছে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ৬০% কন্যাশিশু যারা নির্যাতনের শিকার। এখনও অনেক কেস অপ্রকাশিত থাকে; সামাজিক লজ্জা, ভয়ের কারণে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে পারে না। গণমাধ্যমে এসব খবর দেখে যেন গুটিয়ে না যায় আপনার সন্তান। সে দায়িত্ব নিতে হবে অভিভাবকদেরই। তাকে বড় করুন আত্মবিশ্বাসী করে।

আত্মবিশ্বাস কেন জরুরি

আজকের কন্যাশিশু আগামী দিনের নারী—একজন মা, শিক্ষক, নেতা, গবেষক কিংবা উদ্যোক্তা। এই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে হলে তাকে বড় হতে হবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। আত্মবিশ্বাস একজন মানুষকে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে শেখায়, স্বপ্ন দেখতে শেখায়। আর এটা করতে হবে বাবা মাকে সবার আগে। কারণ, একটি শিশুর বেড়ে ওঠা শুরু হয় পরিবার থেকে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e9cce3a61d6" ) ); মনে রাখতে হবে

ছেলে ও মেয়ের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে মেয়েটির ভেতরেই গড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাসহীনতা। ছোটবেলা থেকেই যদি সে শোনে এই সমাজটা তার জন্য ভীতিকর, যদি দেখে তার ভাই আর তারমধ্যে বৈষম্য করে বড় করা হচ্ছে, যদি শোনে, ‘এই কাজটা মেয়ের, এই কাজটা ছেলের’, তাহলে তার মনের ভেতরে গড়ে ওঠে সীমাবদ্ধতার এক অদৃশ্য প্রাচীর। সেটা কখনোই করা যাবে না। আর যদি সে শুনে, ‘তুমি পারো’, ‘এই পৃথিবী ঠিক ততটাই তোমার, যতটা তোমার ভাইয়ের’; তবে সে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে শিখবে।

সমাজের নেতিবাচকতা ঠেকান

একজন কন্যা শিশুর আত্মবিশ্বাস গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে তার পরিবার। মা-বাবার উৎসাহ, শিক্ষকের সহানুভূতি, প্রতিবেশীদের ইতিবাচক মনোভাব— এসবই একটি শিশুর মনের ভিত গড়ে তোলে।

সমাজ যদি তাকে কোনও কারণে পেছনে নিতে চায়, অভিভাবককে সবার আগে প্রতিবাদ করতে হবে। বাল্যবিবাহ, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া, ছেলে-মেয়ের মধ্যে বৈষম্য করার মতো প্রথাগুলো ভাঙতে না পারলে কন্যাশিশু কখনই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারবে না। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e9cce3a620d" ) ); আপনি তার ওপর নির্ভরশীল সেই অনুভূতি দিন

শিশুটা যখন বড় হচ্ছে তখন থেকেই তাকে সাধারণত বলা হয়- সে বিয়ে করে অন্যখানে চলে যাবে, আপনার ছেলে সন্তান আপনার সঙ্গে থাকবে। এটা কখনোই বলবেন না। আপনি তাকে পরিবারের দায়িত্ব নিতে শেখান। মেয়ে বা ছেলে সন্তানের অভিভাবকের প্রতি একই দায়িত্ব সেটা বুঝতে দিন। সংসারের নানা সিদ্ধান্তে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করুন। তবে সে আত্মবিশ্বাসী হতে শিখবে।

তাকে এগিয়ে যাওয়া নারীদের কথা বলুন

এই সমাজে নানা সহিংসতা আছে এটা যেমন তাকে বলবেন তার সাথে সাথে তাকে সেইসব উদাহরণগুলো জানান, যেগুলো তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তাকে বলুন, বাংলাদেশে অসংখ্য কন্যাশিশু বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের প্রমাণ করেছে। কেউ হয়েছে বৈমানিক, কেউ হয়েছে আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত বিজ্ঞানী, শিল্পী, কেউ আবার জনপ্রিয় লেখক বা ক্রীড়াবিদ। তারা যা হতে চেয়েছে সেটা হতে পেরেছে। জানতে চান সে কী হতে চায়। এবং সেটা হওয়ার জন্য তার যা যা দরকার সেটা দেওয়ার চেষ্টা করুন। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e9cce3a623b" ) );

Comments

0 total

Be the first to comment.

হয়ে যাক লুচি আর আলুর দম BanglaTribune | জীবনযাপন

হয়ে যাক লুচি আর আলুর দম

‘আশ্বিনে নব আনন্দ, উৎসব নব’। আশ্বিন আসতে না আসতেই বাতাসে গন্ধ, পুজো আসছে। শুরু হতে যাচ্ছে একের পর এক...

Sep 15, 2025
ছবিতে মহাসপ্তমী BanglaTribune | জীবনযাপন

ছবিতে মহাসপ্তমী

চলছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। আজ (১৯ সেপ্টেম্বর) এই উৎসবের দ্বিতীয় দিনে উদয...

Sep 29, 2025

More from this User

View all posts by admin