কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কমিউনিটিকে কাজ করতে হবে: শারমীন এস মুরশিদ

কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কমিউনিটিকে কাজ করতে হবে: শারমীন এস মুরশিদ

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের পাশাপাশি কমিউনিটিকে কাজ করতে হবে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ হওয়া উচিত মেয়েদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য আমরা একটা কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছি। আমরা আমাদের কর্মীদের তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি; যাতে শিশুরা কোনও বিপদে পড়লে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন বাংলাদেশ হবে শিশুদের জন্য। আমি মনে করি, যখন মেয়েরা, আমাদের শিশুরা মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়, তখন পুরো রাষ্ট্র মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। 

বুধবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম।

দিবস উদযাপনের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুল গেট (দোয়েল চত্বর সংলগ্ন) থেকে র‌্যালির মাধ্যমে। র‌্যালির উদ্বোধন করেন শারমীন এস মুরশিদ। র‌্যালিটি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পর্যন্ত গিয়ে শেষ। এরপর সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী গোলাম তৌসিফ, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক দিলারা বেগম এবং জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সহ-সভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।

ড. বদিউল আলম মজুমদার তার বক্তব্যে বলেন, যুগ যুগ ধরে নারীর প্রতি বঞ্চনা ও অবহেলা চলে আসছে। এটা যেন আমাদের রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে, আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। আমাদের দেশেও নারী ও কন্যাশিশুরা নানাভাবে বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার হয়। বাল্যকাল থেকেই এসবের অবসান হওয়া দরকার। আমাদের অনুধাবন করা দরকার মেয়েরা কোনোভাবেই সমাজের বোঝা নয়। তারাও ছেলেসন্তানের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মেয়েরা সুযোগ পেলে শিক্ষিত, যোগ্য ও উপার্জনক্ষম হতে পারে। তারাও বিশ্বজয় করতে পারবে। তাই তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। 

মমতাজ আহমেদ বলেন, আমাদের মেয়ে ও ছেলেরা যাতে সমানতালে বেড়ে উঠতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তবে যেহেতু মেয়েরা এখনও নানাভাবে পিছিয়ে রয়েছে তাই তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। বিশেষ করে কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে রোধে আমাদের সবার নজর দেওয়া দরকার। একইসঙ্গে ছেলেশিশুদের উচিত কন্যাশিশুরা যাতে সহিংসতা ও বাল্যবিয়ের শিকার না হয় সে জন্য কাজ করা। এ ক্ষেত্রে ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিশুদের সুরক্ষায় মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আমরা চাই, আমাদের কন্যারা শুধু লেখাপড়ায় নয়, সংস্কৃতিসহ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাক।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত ‘কন্যাশিশু-২০’ বই ও পোস্টারের মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার দেওয়া হয়।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin