কন্যাশিশুকে নিরাপদ রাখতে করণীয়

কন্যাশিশুকে নিরাপদ রাখতে করণীয়

আজকের কন্যাশিশুর আগামী দিনের আদর্শ নাগরিক। আমাদের সমাজে শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী, মধ্যবিত্ত, গরিব প্রায় সব পরিবারে দেখা যায়, কন্যাশিশুর প্রতি অন্য রকম দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যমূলক আচরণ। তারা এই বৈষম্যমূলক আচরণের মধ্যে বেড়ে ওঠে। কিছু সামাজিক কথিত নীতির কারণে শিশুকাল থেকেই কন্যাশিশুদের এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যাতে করে তারা প্রতিবাদী হতে না শেখে। এতে করে সে যদি পারিবারের ভেতরে যৌন হয়রানির শিকার হয়, সেই কথাও কারো কাছে মুখ ফুটে বলতে পারে না। শৈশবের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাকে মানসিকভাবে ট্রমায় ফেলে দেয়। তাই কন্যাশিশুকে নিরাপত্তা দিতে হবে।

আজ (৮ অক্টোবর) জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। এই দিনে চলুন জেনে নেওয়া যাক কন্যাশিশুর নিরাপত্তা সম্পর্কে যেভাবে সচেতন থাকবেন-

শিশুকে শেখাতে হবে বাবা-মা, ভাইবোন ছাড়া অন্য যে কারো কাছ থেকে কতটুকু দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে কোন ব্যক্তি কতটুকু তার কাছে আসতে পারবে এবং সে কার কাছে কতটুকু যেতে পারবে।

কন্যাশিশুকে শরীরের বিভিন্ন অংশ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিতে হবে। কোন অংশ স্পর্শ করা নিরাপদ এবং কোনটি নয়, তা বোঝানোর জন্য বাবা-মাকে সহজ ভাষায় আলোচনা করা।

কোনো আত্মীয় বা পরিচিত কারো সঙ্গে কখনোই শিশুকে একা কোথাও যেতে দেওয়া যাবে না। তাকে কারো কাছে রেখে কোথাও যাওয়া যাবে না। এমনকি স্কুল থেকে আনা নেওয়া করার জন্য পুরোনো ড্রাইভারকেও দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

শিশুর আচরণের দিকেও মনোযোগ দিন। কোনো আত্মীয়র প্রতি শিশুর বিরূপ মনোভাব দেখলে সাবধান হয়ে যান এবং এর কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। তার কাছে যেতে শিশুটি অস্বস্তিবোধ করে, কিংবা তাকে দেখে ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলে, তাহলে তাকে জোর না করে, সুন্দরভাবে কথা বলে কারণ জানার চেষ্টা করতে হবে।

কন্যাশিশুকে বোঝাতে হবে, কেউ যদি তাকে খারাপ স্পর্শ করে এবং সেটা গোপন রাখতে বলে, তবে সেটি ভুল। সে সবসময় বাবা-মাকে সবকিছু বলতে পারবে এবং বাবা-মা সবসময় তার পাশে থাকবে।

অনেক বাবা-মা শিশুর প্রতি ভালোবাসা কাজে তা প্রকাশ পেলেও মুখে তা প্রকাশ করেন না। যে কোনো ধরনের অনুভূতি শিশুর কাছে প্রকাশ করতে হবে। ভালোবাসলে বলতে হবে, রাগ করলে বলতে হবে, কষ্ট পেলে বলতে হবে। এতে শিশুর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হবে।

বাবা-মা সমাজের ভালো-মন্দের বিভেদ বুঝিয়ে দিতে পারে তাহলে সন্তান আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। নিজে কিছু করার বিশ্বাস পাবে। শিশুকে অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। তাহলেই সে বন্ধুর মতো সবকিছু বলতে পারবে।

অনলাইনে কন্যাশিশু কারো দ্বারা বুলিং বা হয়রানির শিকার হলে, কখনোই তাকে দোষ দেওয়া যাবে না। শিশু অস্বস্তি অনুভব করলে, চুপচাপ হয়ে গেলে বা বিরক্ত হলে তার পাশে থাকতে হবে। বুলিংয়ের শিকার হলে সে যেন লুকিয়ে না রেখে জানাতে পারে, সে ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করুন। তাকে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট চিনতে শেখাতে হবে। এছাড়া বিশ্বাসযোগ্য সূত্র চিনতে সাহায্য করুন।

সূত্র: মিডিয়াম,ইউনিসেফ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়

আরও পড়ুনশিশুর প্রথম ৫ বছরে যে ভুলগুলো স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনেআপনার যে কথাগুলো সন্তানের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে

এসএকেওয়াই/কেএসকে/এমএস

Comments

0 total

Be the first to comment.

সামুদ্রিক মাছ কেন খাবেন Jagonews | লাইফস্টাইল

সামুদ্রিক মাছ কেন খাবেন

আপনি কি দিনভর অবসাদ, ঘুমের অস্বস্তি কিংবা চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন? অল্প খেয়ে ওজন বাড়ছে? বা ত...

Sep 13, 2025

More from this User

View all posts by admin