ভারতের কর্ণাটকে একটি অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াতকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিজেপি ও কংগ্রেস। ৫ অক্টোবর হুব্বলিতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে কোরআন থেকে তেলাওয়াতের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিজেপি অভিযোগ তোলে, এটি ছিল সরকারি অনুষ্ঠান এবং সেখানে ধর্মীয় অনুশীলন সম্পূর্ণ প্রটোকলবহির্ভূতভাবে করা হয়েছে। তবে বিজেপির এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কংগ্রেস।
বিজেপি বিধায়ক ও রাজ্য বিধানসভার উপনেতা অরবিন্দ বেল্লাদ বলেন, এটা সরকারি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে কীভাবে একজন ইমামকে ডেকে কোরআন তেলাওয়াত করানো হলো? কংগ্রেসের পতাকা লাগানো ছিল, সরকারি কর্মকর্তারা কংগ্রেস কর্মীর মতো আচরণ করছিলেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে এই ঘটনাকে ‘সরকারি প্ল্যাটফর্মের স্পষ্ট অপব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেন। বেল্লাদ লিখেছেন, আমি মুখ্যসচিব শালিনী রাজনিশকে চিঠি দিয়ে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি। সরকার ব্যবস্থা না নিলে, বিষয়টি আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে।
অভিযোগের জবাবে রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী ও হুব্বলি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সন্তোষ লাড বলেন, বিজেপি শুধু ভিডিওর একটি অংশ দেখাচ্ছে। কোরআন থেকে পাঠ করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় শ্লোক ও দেব-দেবীর নামেও পাঠ হয়েছিল। অনেক ধর্মীয় পাঠই ছিল। তাহলে আপত্তি শুধু এক জায়গাতেই কেন?
সন্তোষ লাড আরও দাবি করেন, এটি মোটেও সরকারি অনুষ্ঠান ছিল না। অনুষ্ঠানটি কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের উদ্যোগে হয়েছিল, সরকার আয়োজন করেনি। কংগ্রেসের পতাকা রাখাতেও কোনও ভুল হয়নি।
হুব্বলির ওই অনুষ্ঠানে দেবর গুডিহাল রোডে উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন এবং সুবিধাভোগীদের মাঝে প্রতীকীভাবে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। শ্রমমন্ত্রী সন্তোষ লাড এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। মোট ১৪ কোটি রুপির উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণাও করা হয় অনুষ্ঠানে।
বিজেপি বলছে, রাজ্যের কংগ্রেস সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরে ধর্মীয় রাজনীতি করছে। দলটির দাবি, সরকারি সম্পদ ও কর্মকর্তাদের ব্যবহার করে কংগ্রেস দলীয় অনুষ্ঠান করছে, যা সরকারি নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিজেপি অযথা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে চাইছে। রাজ্য কংগ্রেসের এক মুখপাত্র বলেছেন, যে অনুষ্ঠানে সব ধর্মের পাঠ করা হয়েছে, সেটিকে শুধু মুসলিম ধর্মের ইস্যু বানিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে। এটি তাদের পুরোনো কৌশল।
কর্ণাটকে ধর্মীয় প্রতীক ও অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন নতুন নয়। হিজাব, মন্দির, উৎসব কিংবা আজানের শব্দ নিয়েও অতীতে বিজেপি-কংগ্রেসের মুখোমুখি অবস্থান দেখা গেছে। এবারের কোরআন তেলাওয়াত বিতর্কও সেই ধারাবাহিকতার নতুন অধ্যায় হয়ে উঠছে।
সূত্র: এনডিটিভি