ব্রাজিলের বেলেমে আগামী ১০ থেকে ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় কপ-৩০ জলবায়ু সম্মেলনকে প্যারিস চুক্তির পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানি সংশ্লিষ্টদের অনৈতিক প্রভাব নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের অন্যতম বড় বাধা হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবি জানায়, আজারবাইজানে অনুষ্ঠিত কপ-২৯ সম্মেলনে ১ হাজার ৭৭০ জন জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্ট উপস্থিত ছিলেন, যাদের অনেকে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবেও অংশ নেন। এই প্রভাবের ফলে কয়লা, তেল ও গ্যাস ব্যবহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর ফলে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে।
সংস্থাটি বলছে, এবারের কপ-৩০ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় ‘নিউ কালেক্টিভ কোয়ান্টিফাইড গোল (এনসিকিউজি)’—যার আওতায় বার্ষিক কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু অর্থায়ন সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হবে। তবে শিল্পোন্নত দেশগুলোর পূর্ব প্রতিশ্রুত অর্থ এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় উন্নয়নশীল দেশগুলো নতুন এই অর্থায়ন কাঠামো নিয়েও সংশয়ে রয়েছে।
টিআইবি জলবায়ু অর্থায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, জীবাশ্ম জ্বালানি লবিস্টদের প্রভাব বন্ধ করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে সংস্থাটি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর জ্বালানি পরিকল্পনা বাতিল করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।