কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ার শর্ত: শঙ্কা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে রিক্রুটিং এজেন্টদের চিঠি

কর্মী নিয়োগে মালয়েশিয়ার শর্ত: শঙ্কা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে রিক্রুটিং এজেন্টদের চিঠি

রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্রাইটেরিয়া থেকে ‘অযৌক্তিক, অবাস্তব, অগ্রহণযোগ্য ও বৈষম্যমূলক শর্ত’ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক নেতারা। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের কাছে চিঠি দেন তারা। 

চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিদের ১০টি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মালয়শিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে আপনার মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৯ অক্টোবর একটি বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী যেসব রিক্রটিং এজেন্সি মালয়েশিয়াতে কর্মী পাঠাতে চায়, তাদের আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত শর্তগুলা মেনে আবেদনের আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত প্রতিটি শর্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক, অবাস্তব ও অগ্রহণযোগ্য।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ১০ হাজার বর্গফিটের অফিস, পাঁচ বছরে অভিজ্ঞতা, পাঁচ বছরে ৩ হাজার কর্মী পাঠানো, তিন বছর ধরে একই ঠিকানা থেকে ব্যবসা পরিচালনা করা, পাঁচ জন নিয়োগকর্তা থেকে সনদপত্র দেওয়া, নিজের নামে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থাকা ইত্যাদি শর্ত যারা পূরণ করতে পারবে তাদের আবেদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনশক্তি রফতানি শুরু থেকে আজ পর্যন্ত কোনও দেশে কর্মী পাঠাতে এ ধরনের ক্রাইটেরিয়ার কথা আমরা শুনিনি। বিশ্বের কোনও দেশে অভিবাসীকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে এত শর্ত দেওয়ার নজিরও নেই। মালয়েশিয়াতে আমরা ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত কোনও প্রকার শর্ত ছাড়া বিভিন্ন সেক্টরে লাখ লাখ কর্মীর পাঠিয়েছি। ২০১৭ সাল থেকে শুরু হয় অবৈধ সিন্ডিকেট, বৈষম্য, শোষণ ও হাজার হাজার কোটি টাকার লুটপাট। বাংলাদেশের প্রতিটি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ সরকারের সব ক্রাইটেরিয়া বা শর্ত পূরণ করেই লাইসেন্স পেয়েছে। সারা বিশ্বে আমরা কর্মী পাঠিয়ে আসছি। কোনও দেশেই এ ধরনের শর্ত কখনও আরোপ করেনি।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কোভিড-১৯ এর প্রভাব, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্ব মন্দা ও মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের সিন্ডিকেট, অসংখ্য এজেন্সির সৌদি দূতাবাসের তালিকাভুক্তি না থাকা, সংযুক্ত আমার আরব আমিরাত, বাহারাইন, কাতার, ইরাক, লিবিয়া ও ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকার কারণে অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সি বিগত পাঁচ-ছয় বছর তাদের ইচ্ছা ও সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ শ্রমিক কোনও এক দেশে অথবা তিনটি দেশে শ্রমিক পাঠাতে পারেনি। শর্ত অনুযায়ী তিন বছর লাগাতার ১০ হাজার বর্গ ফিটের অফিস পরিচালনার করা, সম্মিলিতভাবে বায়রা ট্রেনিং সেন্টার থাকা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ট্রেনিং সেন্টারের শর্ত একটি অবাস্তব ও অত্যন্ত ব্যয়বহুল যাহা বাস্তবসম্মত নয় বরং অভিবাসন ব্যয় বৃদ্ধির হাতিয়ার।

চিঠিতে আরও বলা হয়, মালয়েশিয়ান লাইসেন্স হোল্ডারদের মধ্যে একজনেরও ১০ হাজার বর্গফিটের অফিস নেই; এমনকি শ্রমিক পাঠানো অন্যান্য দেশ, নেপাল, পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ কোনও দেশেই ১০ হাজার স্কয়ার ফিটের অফিস পরিচালিত হয় না। উপরোক্ত দশটি শর্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, অধিকাংশ সত্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক ও অবাস্তব। মূলত মালয়েশিয়া শ্রমবাজার আবারও সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই এ ধরনের প্রক্রিয়া করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। এটি সিন্ডিকেট করার নতুন এক পদ্ধতি। ওই শর্তগুলোর সঙ্গে বিদেশগামী শ্রমিকদের কোনও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তেমন জড়িত নয় বরং কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় আগের সিন্ডিকেটের মতোই বৃদ্ধি পাবে।

বায়রা নেতারা জানান, এই শর্ত আরোপের মাধ্যমে গোটা ব্যবসাটি গুটিকয়েক জনের নিয়ন্ত্রণে অটোমেটিক্যালি চলে যাবে। আর এটাই হলো অতীতের অবৈধ সিন্ডিকেটের হোতাদের পরিকল্পনা। আগে কোটি কোটি টাকা নিয়ে কোনও ধরনের ক্রাইটেরিয়া ছাড়া সিন্ডিকেটের সদস্য করেছে, এখন পরোক্ষভাবে সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এই ক্রাইটেরিয়াগুলো শুধু বাংলাদেশের ৯৯ শতাংশ রিক্রটিং এজেন্সিকে কর্মী রফতানি থেকে বাদ দিয়ে ১০-১৫ জনে নিয়ন্ত্রণ করার ষড়যন্ত্র।

তাদের মতে, ২০১৭ সাল থেকে মালয়েশিয়ার মত একটা অতি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে আছে।

চিঠিতে তারা আরও উল্লেখ করেন, আপনি মালয়েশিয়ান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় করে এই অবাস্তব শর্ত গুলো প্রত্যাহার করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন এবং সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্ত করবেন এটাই আমাদের সকলের দাবী। আমরা ইতিপূর্বে আপনাকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম মালয়েশিয়া যদি একান্তভাবে লিমিটেড লাইসেন্সের মাধ্যমে কর্মী নিতে চায় তাহলে প্রয়োজনে শুধুমাত্র সরকারি এজেন্সি বোয়েসেলকে মেইন এজেন্ট হিসেবে গণ্য করে সকল সকল রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ করে দেয়া যেতে পারে।

মন্ত্রণালয়ের চিঠি দিতে উপস্থিত ছিলেন বায়রার সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি রিয়াজ -উল -ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, আকবর হোসেন মঞ্জুসহ অন্যান্যরা।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin