১৯৮৬ সালের এশিয়া কাপের কথা মনে আছে? সেবার ভারত খেলেনি, কারণ তারা শ্রীলঙ্কায় যেতে চায়নি। কিংবা ১৯৯০-৯১ এশিয়া কাপ? যেখানে পাকিস্তান খেলেনি। কারণ, তখন তারা ভারতের সঙ্গে কোনও কিছুই করতে চাচ্ছিলো না।
এবারও তেমন হওয়ার আশঙ্কা ছিল। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। একই সপ্তাহে দ্বিতীয়বার মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান, আর চাইলে এক সপ্তাহ পর আবারও দেখা হতে পারে। কিন্তু আমরা সবাই জানি দৃশ্যপটগুলো মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। এক দল হাত মেলাতে (করমর্দন) নারাজ, আরেক দলের ম্যাচ রেফারিকেই ভালো লাগে না।
সবকিছু পাশে রাখলে, রবিবার সুপার ফোরের এই লড়াই ক্রিকেটীয় দিক থেকেও হতে পারে জমজমাট। ওমানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষ করার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আবার মাঠে নামছে ভারত। আর পাকিস্তান যদি সেই ম্যাচ দেখে থাকে, তবে কিছু আশাব্যঞ্জক দিক খুঁজে পেতে পারে। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে আজ রাত সাড়ে ৮টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস।
ওমানের শাহ ফয়সাল বল হাতে শুরুতেই শুবমান গিলকে বোল্ড করেছিলেন, বারবার বিভ্রান্ত করেন সঞ্জু স্যামসনকেও। পাকিস্তানের স্কোয়াডেও আছেন বাঁহাতি সুইং বোলার। যার নামে আছে ‘শাহ’ (শাহীন শাহ)।
পিচে গতি না থাকায় ভারতের ব্যাটাররা স্বাচ্ছন্দ্য খুঁজে পাননি। পাশাপাশি, ভারত বল হাতে তুলতে পেরেছিল মাত্র চার উইকেট। এমনকি ভারত ৮ উইকেট হারানোর পরও সূর্যকুমার যাদব ব্যাট হাতে নামেননি। তারপরও জয় এসেছে। বুমরা-চক্রবর্তীকেও বিশ্রাম দিয়েছিল ভারত, আর বোলিংয়ে ভরসা রাখতে হয়েছিল ষষ্ঠ-সপ্তম-অষ্টম বোলারের ওপর। সব মিলিয়ে ছিল পরীক্ষামূলক ম্যাচ।
এসব মাথায় রেখেই পাকিস্তান জানে, ভারতই ফেভারিট। তবে সুপার ফোরে খাতার হিসাব নতুন করে শুরু হয়েছে। আর আরব আমিরাতের মতো উইকেটে যেখানে রান কম ওঠে, সেখানেই হয়তো কিছুটা কমে আসতে পারে দুই দলের শক্তির পার্থক্যও। বরং ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং নেওয়াই গত ম্যাচে পাকিস্তানের ভুল হয়ে গিয়েছিল। যে কন্ডিশন রান তাড়াতেই বেশি সহায়ক হয়ে ওঠে।
তবু সব মিলিয়ে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ এমন এক ম্যাচ হয়ে উঠতে পারে যেটি মনে থাকবে ক্রিকেটীয় কারণে, মাঠের বাইরের বিতর্কের জন্য নয়। সেই বিতর্ক এড়িয়ে মনোযোগ ধরে রাখতে ভিন্ন মন্ত্র অনুসরণ করতে বলছেন ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শুক্রবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের অধিনায়ক বলেছেন, ‘রুমের দরজা, মুঠোফোন বন্ধ করে ঘুমাও।’
এখন দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইটা জমজমাট হলেই হয়!