কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর/সংস্থার ১০৯ জন বঞ্চিত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ৬৪৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। শতাধিক কর্মকর্তার দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থাপনার নামকরণের ক্ষেত্রে বিগত সরকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে গত এক বছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সাফল্য, অর্জন ও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গত বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বক্তব্য দেন। এ সময় কৃষিসচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি উপদেষ্টা বলেন, কোনো অবস্থাতেই ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। দুই ফসলি ও তিন ফসলি জমিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। কৃষিজমি সংরক্ষণে কঠোর বিধান রেখে ভূমি ব্যবহারও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ প্রণয়নের কাজ চলছে।
উপদেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অগ্রগিত সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, গত এক বছরে ৮৮ লাখ ৫৫ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে সার, বীজ ও চারা এবং অন্যান্য সহায়তা বাবদ ৮৯৩ কোটি ২০ লাখ কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা তাঁর দায়িত্বকালে কৃষিপণ্য রপ্তানি আয় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি, চীনে প্রথমবারের মতো আম রপ্তানি, চলতি মৌসুমে ৬২ হাজার ৫১ টন আলু রপ্তানি হয় এবং গাবতলীতে রপ্তানির জন্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ হচ্ছে বলে জানান।
কৃষি উপদেষ্টা দেশের প্রতিটি ভূমি মৌজাকে ডেটাবেজের আওতায় এনে সার, বীজ, বালাইনাশক, সেচ, ফসল বৈচিত্র্য, আবহাওয়া, রোগবালাইসহ কৃষিসংশ্লিষ্ট সব তথ্য সন্নিবেশিত করে একটি মোবাইল অ্যাপ ‘খামারি’ চালু করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের জন্য ‘খামারি অ্যাপ’ ও ‘ক্রপ জোনিং সিস্টেম’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
কৃষি উপদেষ্টা বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর/সংস্থার ১০৯ জন বঞ্চিত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি প্রদান করা হয়েছে। ১৯ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৬৪৫ জন কর্মকর্তাকে বদলি ও শতাধিক কর্মকর্তার দুর্নীতি তদন্ত করার জন্য দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্থাপনার নামকরণের ক্ষেত্রে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।