অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক শিগগিরই দায়িত্ব ছাড়তে পারেন—এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ফাইন্যানশিয়াল টাইমস। পত্রিকাটি জানিয়েছে, প্রযুক্তি জায়ান্টটি ইতোমধ্যে উত্তরসূরি বাছাই প্রক্রিয়া জোরদার করেছে এবং কুক আগামী বছরই সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৬৬ বছরে পা রাখতে যাওয়া কুক ২০১১ সালে স্টিভ জবসের কাছ থেকে অ্যাপলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার দীর্ঘ ১৪ বছরের নেতৃত্বে অ্যাপল বাজারমূল্যে ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অর্জন করেছে, পাশাপাশি নানা বিতর্কের মুখেও পড়েছে।
কে আসছেন কুকের জায়গায়?
অনেক দিন ধরেই অ্যাপলের ভেতরে-বাইরে একাধিক শীর্ষ নির্বাহীর নাম উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন— সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রেইগ ফেডেরিগি, বিশ্বব্যাপী মার্কেটিং প্রধান গ্রেগ জসউইয়াক এবং দীর্ঘদিন ধরে কুকের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত সিওও জেফ উইলিয়ামস, যিনি এ বছর শুরুর দিকে পদত্যাগ করেছেন।
তবে ফাইন্যানশিয়াল টাইমসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক নতুন নাম—জন টারনাস, অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট।
৫০ বছর বয়সী টারনাস অ্যাপলের শীর্ষ নির্বাহীদের মধ্যে সবচেয়ে তরুণ এবং প্রায় ২৪ বছর ধরে কোম্পানির সঙ্গে আছেন।
২০২৪ সালে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে প্রথমবার টারনাসকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়েছিল, টারনাস ভালো উপস্থাপক—এমনটাই মনে করেন টিম কুক। একই সঙ্গে তিনি অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের, বিতর্কিত কোনো বিষয় ইমেলে লেখেন না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংযমী—এমন মন্তব্যও করেন অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ এক সূত্র।
অ্যাপলের বিভিন্ন বড় ইভেন্টেও তার উপস্থিতি ক্রমেই বেড়েছে। ২০২০ সালে প্রথম ইন-হাউস সিলিকন চিপ এম১ উন্মোচন থেকে শুরু করে চলতি বছরের আইফোন এয়ার ঘোষণায়ও মুখ্য ভূমিকা ছিল তার।
ইঞ্জিনিয়ার থেকে শীর্ষ নেতৃত্বের পথে
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw691b27dbeb7fd" ) );
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে ১৯৯৭ সালে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক করা টারনাস ভিআর হেডসেট নির্মাতা ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমস দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। এরপর ২০০১ সালে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেন। ২০১৩ সালে হার্ডওয়্যার টিমে নেতৃত্বের দায়িত্ব। ২০২২ সালে পুরো হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান হিসেবে পদোন্নতি।
ম্যাক, আইপ্যাড, আইফোন থেকে এয়ারপডস—অ্যাপলের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের পেছনেই রয়েছে তার অবদান।