কয়রায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে জামায়াতে ইসলামী

কয়রায় ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করে মাঠে জামায়াতে ইসলামী

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনীতির মধ্যে খুলনার কয়রা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি। ঘোষিত প্রার্থীরা ইতিমধ্যে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও গণসংযোগ শুরু করেছেন।

৬ সেপ্টেম্বর কয়রা উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে পাঁচ ইউনিয়নের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। পরে ১২ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নামও প্রকাশ করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমানসহ অন্য নেতারা।

ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন আমাদী ইউনিয়নে মাওলানা সাজ্জাদুল ইসলাম, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে এম আইয়ুব আলী, মহারাজপুর ইউনিয়নে মো. সাইফুল্লাহ হায়দার, কয়রা সদর ইউনিয়নে মাওলানা মিজানুর রহমান, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে মো. নূর কামাল এবং দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে মাওলানা মতিউর রহমান।

কয়রা উপজেলা জামায়াতের আমির মিজানুর রহমান বলেন, ইউপি নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, দীর্ঘ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ফল। প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই এ বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রতিটি ইউনিয়নের জামায়াতের রোকন, ছাত্রশিবির সাথী, সদস্য ও ছাত্রী সংস্থার অগ্রসর কর্মীরা গোপন ভোট দিয়ে প্রার্থী ঠিক করেছেন। পরে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে নাম ঘোষণা হয়েছে। ফলে দলের ভেতরে বিভ্রান্তি বা বিশৃঙ্খলার সুযোগ নেই।

মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রার্থী এম আইয়ুব আলী বলেন, ‘তৃণমূলের সিদ্ধান্তে আমাকে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আমরা কেউ যেতে পারি না। ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। গণসংযোগও শুরু করেছি।’

খুলনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের সংগঠনভিত্তিক কাঠামো শক্তিশালী। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে যোগ্য নেতৃত্ব গড়তে আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে সংগঠন আরও সুসংহত হবে। ইউনিয়ন পরিষদের প্রার্থী ঘোষণা আমাদের সংগঠনের একটি নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।’

এ বিষয়ে খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা তাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। তবে বিএনপির মনোযোগ এখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নতুন সরকার গঠনের পর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। খুলনা-৬ কখনোই জামায়াতের ঘাঁটি ছিল না। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালে এই আসনের এমপি ছিলেন জামায়াতের, তবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ জয়ী হয়েছিলেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

গাজীপুরে নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ ৪ জনকে মারধর Prothomalo | জেলা

গাজীপুরে নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ ৪ জনকে মারধর

গাজীপুরের কাশিমপুরে এক নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাভারে কর্মরত বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন...

Sep 24, 2025

More from this User

View all posts by admin