ক্যামেরুনে প্রায় ৪৩ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। রবিবার (১২ অক্টোবর) অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনে আবারও জয়লাভের মাধ্যমে লৌহমুষ্ঠিতে আরও কিছুদিন দেশ শাসন করবেন বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের প্রবীণতম এই শাসকের বর্তমানে বয়স ৯২ বছর। দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় এসেছেন তিনি। ২০০৮ সালে তিনি রাষ্ট্রপ্রধান পদের মেয়াদ তুলে দেন।
ডিভাইড অ্যান্ড কনকার বা বিভক্তি করে ক্ষমতা ধরে রাখার মৌলিক কৌশল ব্যবহার করে দেশে স্বৈরতন্ত্র চালানোর অভিযোগ থাকলেও, তার সরকার দাবি করে আসছে, দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে নির্বাচনের মাধ্যমেই পদে বসা হয়।
তবে এবার কিছুটা চ্যালেঞ্জ আসতে পারে প্রেসিডেন্ট বিয়ার পথে। তার অন্যতম প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন সাবেক সরকারি মুখপাত্র ৭৬ বছর বয়সি ইসা চিরোমা, যিনি জনসমাবেশে সরকারবিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তুলতে সম্ভব হয়েছেন। তার পেছনে কয়েকটি বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠনের সমর্থন রয়েছে।
এছাড়া, প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশটিতে অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাজধানী ইয়াউন্ডের ব্রিকেটেরি এলাকার ড্রাইভার হাসান জিবরিল বলেন, ৪৩ বছর ধরে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। চাকরি নেই। আমরা পরিবর্তন চাই, কারণ বর্তমান সরকার একনায়কতান্ত্রিক।
অবশ্য, পল বিয়ার পুরো শাসনামলেই চাকরিবাকরি ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের সমস্যা বিরাজ করেছে কিনা, সে ব্যাপারে কারও অভিযোগেই স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।
বাণিজ্যিক রাজধানী দুয়ালার মেকানিক হার্ভেস মিটারঁ বলেন, আমাদের জীবনে কিছুই বদলায়নি। আমরা এখন সত্যিকারের পরিবর্তন দেখতে চাই। কেবল কথায় আর চিড়ে ভিজবে না।
তবে এসব চ্যালেঞ্জ থাকার পরও বিশ্লেষকদের মতে, ক্যামেরুনের প্রশাসন ও নির্বাচনি কাঠামোতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে প্রেসিডেন্টের। আর নিজেদের মধ্যেই বিভক্ত বিরোধীরা তাকে হারানোর অবস্থায় নেই।
অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফ্রঁসোয়া কঁরাদি বলেন, নির্বাচনে কিছু চমক থাকতে পারে। কিন্তু বিভক্ত বিরোধী শিবির ও সরকারি কাঠামোতে শক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে ৯২ বছর বয়সী বিয়া অষ্টম মেয়াদেও ক্ষমতায় থাকবেন বলেই ধারণা করছি।
নির্বাচনে জয় নিয়ে নিজেও বোধহয় প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী প্রেসিডেন্ট বিয়া। ‘গ্রেটনেস অ্যান্ড হোপ’ স্লোগানে উত্তরাঞ্চলের শহর মারুয়ায় কেবল একটি জনসভার আয়োজন করেছেন তিনি। তার প্রচারণা মূলত রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমিত। নির্বাচনের আগে প্রথা অনুযায়ী উন্নয়নের অঙ্গীকার দিচ্ছেন দলীয় নেতারা।
ভোটগ্রহণ হবে আন্তর্জাতিক সময় (জিএমটি) অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ফলাফল ঘোষণা করা হবে ১৫ দিনের মধ্যে। নির্বাচনে কেবল ৮০ লাখের কিছু বেশি ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স