ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে তাণ্ডব চালাচ্ছে হারিকেন মেলিসা। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস তো হয়েছেই, পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান বানের জলে ভেসে গেছে এবং কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
জ্যামাইকায় বুধবার (২৯ অক্টোবর) পঞ্চম ক্যাটাগরির হারিকেনটি সরাসরি আঘাত হানে। এটি ওই অঞ্চলে আঘাত করা ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালীগুলোর একটি। দেশটিতে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা গেছে। এছাড়া, ক্যারিবীয় আরেক দেশ হাইতিতে বন্যায় ১০ শিশুসহ ২০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সেখানে প্রায় তিন হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে গেছেন।
মেলিসা এরপর কিউবায় আঘাত হানে, যেখানে এটি তৃতীয় ক্যাটাগরির ঝড়ে রূপ নিয়ে ঘণ্টায় ১১৫ মাইল গতির বাতাস ও প্রবল বৃষ্টি নিয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে আঘাত করে।
মেলিসা দুর্বল হয়ে প্রথম ক্যাটাগরিতে নেমে এলেও, এখনও প্রবলবেগে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।
জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস বলেছেন, দ্বীপজুড়ে বিপর্যয় নেমে এসেছে। রাতারাতি দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
তিনি জানান, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বাড়ির ছাদ উড়ে গেছে। পাশাপাশি হাসপাতাল, লাইব্রেরি, পুলিশ স্টেশন, বন্দরঘর ও অন্যান্য নগর অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জ্যামাইকার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ব্রিটেনের রাজা চার্লস তৃতীয় গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই ভয়ংকর দুর্যোগ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা এখন কতটা জরুরি।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল নাগরিকদের সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশটি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিল, যা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সহায়তা করেছে।
স্থানীয় এনজিও ওয়ার্ল্ড রিলিফ জানিয়েছে, উপকূলীয় অনেক বাড়িঘর পানিতে ভেসে গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা মূল্যায়নে জ্যামাইকায় একটি দল পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। হাইতি ও বাহামা থেকেও আনুষ্ঠানিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি