মাদকবিরোধী অভিযানকে ঘিরে মশা মারতে কামান দাগার মতো শক্তি প্রদর্শন করছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) ওয়াশিংটনের তরফ থেকে জানানো হয়, ক্যারিবীয় অঞ্চলে রণতরি (এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার) ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড গ্রুপ মোতায়েন করা হবে, যা ওই অঞ্চলে আরও অনেক বেশি মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।
ক্যারিবীয় অঞ্চলে আগে থেকেই আটটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক ডুবোজাহাজ (নিউক্লিয়ার সাবমেরিন) এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা ছিল।
পেন্টাগন মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, দক্ষিণ কমান্ড অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিবৃদ্ধি আমাদের সক্ষমতা আরও বাড়াবে। ফলে আমরা অবৈধ কার্যক্রম শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ ও ব্যাহত করতে পারব।
রণতরিটি লাতিন আমেরিকার দিকে কবে যাত্রা শুরু করবে তা জানাননি তিনি। কয়েকদিন আগেও এটি জিব্রাল্টার প্রণালি দিয়ে ইউরোপের দিকে চলছিল। ২০১৭ সালে কমিশনপ্রাপ্ত জেরাল্ড ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ও বিশ্বের সবচেয়ে বড় রণতরি। ক্যারিয়ারটিতে পাঁচ হাজারের বেশি নাবিক রয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদকবাহী জাহাজে অন্তত ১০টি হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এসব ঘটনায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন। পেন্টাগন বলছে, নিহতদের মধ্যে কিছু ভেনেজুয়েলানও ছিলেন।
ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে কারাকাসের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানকারীদের আশ্রয় ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার অভিযোগ করে আসছে। নতুন করে ক্যারিয়ার মোতায়েন মধ্য দিয়ে দু দেশের সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।
তবে মাদক নিয়ে হোয়াইট হাউজের অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে কারাকাস। বরং এখানে ক্ষমতার পালাবদলের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ সরকারের। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চায়।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলাতে প্রয়োজনে গোপনে গোয়েন্দা অভিযান চালানোর জন্য সিআইএ-কে অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার এক ভাষণে তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কখনও হস্তক্ষেপ করে, তাহলে শ্রমিক শ্রেণি রাস্তায় নেমে সাধারণ ধর্মঘট ঘোষণা করবে, এবং লাখ লাখ মানুষ রাইফেল হাতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে মিছিল করবে।
ওয়াশিংটন গত আগস্টে মাদুরোর গ্রেফতারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে পুরস্কারের অর্থ দ্বিগুণ করে পাঁচ কোটি ডলার করেছে। হোয়াইট হাউজের অভিযোগ, মাদুরো মাদক চোরাচালানে জড়িত এবং নিজেই একটি চক্রের নেতা। তবে তাদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়ার সম্পর্কও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে মাদক নেতা বলে বসেন ট্রাম্প। এরপর বোগোটার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ ক্যারিয়ার মোতায়েনের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই ট্রাম্প প্রশাসন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট পেত্রোর বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স