লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে গতকাল রোববার ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিন শিশুসহ চারজন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলে জানিয়েছে লেবানন সরকার।
রোববারের ওই হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বিনত জবেইলে হিজবুল্লাহর একজন অপারেটরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেছে।
এই হামলায় ‘কয়েকজন নিরীহ বেসামরিক নাগরিকও’ নিহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিরীহ ব্যক্তিদের কোনো ক্ষতি হয়ে থাকলে আইডিএফ দুঃখ প্রকাশ করছে। তারা যতটা সম্ভব ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করে থাকে। ঘটনাটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
গতকাল রোববারের হামলা নিয়ে লেবানন পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি বলেন, হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাবাসহ তাঁর তিন সন্তান রয়েছে। তাঁরা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
হামলায় নিহত শিশুদের মা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসেফ রাজি।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী একটি ড্রোন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সেগুলো একটি মোটরসাইকেল ও একটি গাড়িতে আঘাত হানে। নিহত বাবা ও তাঁর তিন সন্তান ওই গাড়িতে ছিলেন।
মোটরসাইকেল আরোহীও নিহত হয়েছেন। খুব সম্ভবত মোটরসাইকেল আরোহী হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
লেবানিজ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইসরায়েলের এই হামলা ছিল একধরনের ভয় দেখানোর বার্তা, যা দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামগুলোতে ফিরে আসতে শুরু করা আমাদের জনগণকে ভয় দেখাতে চালানো হয়েছে।’
নাওয়াফ সালাম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এভাবে বারবার আন্তর্জাতিক সনদ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জন্য ইসরায়েলকে সবচেয়ে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ গতকাল রোববার এক পোস্টে বলেছে, ‘দক্ষিণ লেবাননে এক পরিবারের তিন শিশুকে আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে হত্যার ঘটনায় আমরা হতবাক ও ক্ষুব্ধ। শিশুদের ওপর এ হামলা অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।’
ইউনিসেফ আরও বলেছে, কোনো শিশুর জীবন দিয়ে সংঘাতের মূল্য চোকানো কখনো উচিত না। প্রতিটি শিশুর সুরক্ষার জন্য অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের নভেম্বরে ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তা সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালানো অব্যাহত রেখেছে।