ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষে মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫’ দেশব্যাপী চলমান রয়েছে। এ বিশেষ অভিযান ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনব্যাপী দেশের উপকূলীয় নদ-নদী, মোহনা ও সাগরসহ ৩৮ জেলার ১৭৮টি উপজেলায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫’ পরিচালনা করছে।
এই সময়কালে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদফতর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিষিদ্ধ জাল ও ইলিশ জব্দ, জরিমানা এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণসহ ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে জানানো হয়, ৪ অক্টোবর থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৫টি অভিযান ও ১ হাজার ১৭৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ হাজার ৩০১টি মামলা দায়ের করা হয় এবং আইন ভঙ্গের অপরাধে ১ হাজার ৪৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া এবং ৪২ দশমিক ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৪২৮ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার জাল ও ৫৭ দশমিক ১ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ জালগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে এবং নৌকা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি নিলামে বিক্রির মাধ্যমে ৩১ দশমিক ১২৮ লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযান চলাকালে মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ মৎস্য অধিদফতরের দুজন কর্মকর্তা, নৌ পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর, তিনজন কনস্টেবলসহ মোট ৯ জন সদস্য আহত হন। ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫’ পরিচালনা করছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর, কোম্পানীগঞ্জ, রায়পুর, হিজলা, শিবচর ও শ্রীনগর উপজেলায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে যুদ্ধজাহাজ ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট দিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া আকাশপথে ইলিশ অধ্যুষিত জেলাগুলোর নদীগুলো নজরদারির জন্য এ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ৩টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও মা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জেলেদের জন্য ৩৮ জেলার ১৬৫টি উপজেলার ৬ লাখ ২০ হাজার ১৪০ জন জেলেকে ২৫ কেজি হারে ১৫ হাজার ৫০৩ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ১৫ হাজার ৪০০ দশমিক ৮৫ মেট্রিক টন (৯৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ) চাল ইতোমধ্যে বিতরণ শেষ হয়েছে।