মা-মেয়ে হত্যার বিচার দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

মা-মেয়ে হত্যার বিচার দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ও তাঁর মাকে হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও হত্যাকারীর ফাঁসি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা নগরের কান্দিরপাড় এলাকার টাউন হল মাঠে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি নিহত ওই ছাত্রীর ভাইও অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থীর সহপাঠী নূর মোহাম্মদ সোহান বলেন, ‘আজ হত্যাকাণ্ডের ১৪ দিন অতিবাহিত হলেও আমরা ফরেনসিক রিপোর্ট পাইনি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মূল ঘটনা কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। এই বিলম্ব সহপাঠীদের মানসিকভাবে আরও ভেঙে দিচ্ছে। তাই আমরা আজ মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচির মাধ্যমে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একটাই দাবি, দ্রুততার সঙ্গে ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করা হোক। প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ্যে আনা হোক। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। তা না হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।’

আরেক সহপাঠী নূরানী শেখ বলেন, ‘পুলিশ বলেছিল ১৪ দিনের মধ্যে আমাদের সবকিছু জানাবে। কিন্তু আমরা এখনো এই হত্যার সঠিক কারণ জানতে পারিনি। আমরা এটা নিয়ে অনেকটা হতাশায় আছি। আমরা তদন্তে আশার আলো দেখছি না। এই হত্যাকাণ্ডে যারা যুক্ত তারা যাতে প্রাপ্য শাস্তি পায়, আমরা আজকে সেই দাবি জানাচ্ছি। ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে।’

ঘটনার ১৫ দিনের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আলামত জনসমক্ষে না আনায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহত শিক্ষার্থীর ভাই। তিনি বলেন, ‘আমার মা ও বোনকে হত্যা করার পর খুনি আবারও বাসায় গেছে। সে কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে, কোথায় গেছে, কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা উচিত। আমার ভাই আইনজীবী, আমরা দেখছি কীভাবে মামলাটি ভালোভাবে পরিচালনা করা যায়। সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে নিশ্চিত করা হয়, আমরা সেই চেষ্টা করব। বার কাউন্সিলের কেউ যাতে এই আসামির পক্ষে না দাঁড়ান, আমি সব আইনজীবীর কাছে সেই অনুরোধ করব।’

৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাতটার দিকে নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ভাড়া বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তাঁর মায়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় বাসায় শুধু মা ও মেয়ে ছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে বাসায় পৌঁছে মা–বোনকে হত্যার বিষয়টি টের পান তাহমিনা বেগমের দুই ছেলে। ৮ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন নিহতের বড় ছেলে।

এ মামলায় এরই মধ্যে মোবারক হোসেন নামের এক কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৯ সেপ্টেম্বর রাতে এই আসামি কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

গাজীপুরে নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ ৪ জনকে মারধর Prothomalo | জেলা

গাজীপুরে নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকসহ ৪ জনকে মারধর

গাজীপুরের কাশিমপুরে এক নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় সাভারে কর্মরত বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন...

Sep 24, 2025

More from this User

View all posts by admin