সিআইডির জালে আটকা পড়েছেন মাদক কারবারি থেকে বহুরূপী প্রতারণার মূলহোতা জোছনা খাতুন। সিআইডি মিডিয়া বিভাগ থেকে তাকে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর কাফরুল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, শুধু ইতালি নেওয়ার কথা বলে জাল ভিসা ধরিয়ে দেওয়া নয়, সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর নাম করেও প্রতারণা করা হতো শত শত কোটি টাকা। আর এ চক্রের মূলহোতা ছিলেন জোছনা বেগম। তিনি পল্টন থানার ৮ নম্বর মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি। ইতোমধ্যে এ চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মিলন মিয়াকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত সূত্রে সিআইডি আরও জানায়, প্রথমে লোভনীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মোটা টাকার চুক্তি হয়। বেশকিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নেওয়া হয় সে চুক্তির অর্থ। এরপর ভিক্টিমকে ভুয়া ভিসা ধরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কখনও পাসপোর্ট আটকে রেখে হয়রানি করা হতো।
তদন্তে আরও জানা যায়, ইতালিতে লোক পাঠানোর কথা বলে মিলন মিয়া প্রতারক চক্রের হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক সংগ্রহ করতো। বিদেশ যেতে আগ্রহী লোকদেরই মূলত তারা টার্গেট করতো। ফরিদপুর, নড়াইল নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের আরও বেশকিছু জেলায় এ প্রতারক চক্রটির নেটওয়ার্ক রয়েছে। এভাবে প্রায় শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এ চক্রটি। প্রকৃত ভিসার বদলে দিয়েছে ভুয়া ভিসা। চক্রটির প্রতারণালব্ধ উক্ত অর্থ বেশকিছু অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করার তথ্য প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট আটকে রেখে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে।
গ্রেফতার জোসনা খাতুন (৩৫) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন। সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতারণার দায়ও স্বীকার করেছেন। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডি, ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ পরিচালনা করছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের সনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।