মালদ্বীপে বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। সোমবার (৬ অক্টোবর) স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় রাষ্ট্রপতি প্রাসাদের রিপাবলিক স্কয়ারে পৌঁছানোর পরে হাইকমিশনারকে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের (এমএনডিএফ) একটি স্মার্ট দল গার্ড অব অনার দেয়। পরে এমএনডিএফ ড্রাম ও ট্রাম্পেট ব্যান্ডের সঙ্গে হাইকোলহু নামে একটি ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রায় হাইকমিশনারকে রিপাবলিক স্কয়ার থেকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে যান এবং সেখানে তিনি ভিজিটরস বুকে স্বাক্ষর করেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের গাজী হলে রাষ্ট্রপতি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়। পরিচয়পত্র পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আলোচনায় রাষ্ট্রপতি মুইজ্জু মানবসম্পদ উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট মূল ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের জন্য আন্তরিক প্রশংসা করেন। তিনি দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক চমৎকার বলে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং আগামী দিনগুলোতে বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।
নাজমুল ইসলাম মালদ্বীপ সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগ পেয়েছেন, যারা উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপের বন্দরগুলির মাধ্যমে পণ্য পরিবহণের সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।
উভয় পক্ষের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। তারা মালদ্বীপের কৃষি খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তার পথ খোঁজা এবং প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে সম্মত হন।
হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুকে পৌঁছে দেন এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ সময় হাইকমিশনারের কাউন্সেলর মো. সোহেল পারভেজ এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।