ইরাকে ২০০৩ সালে মার্কিন অভিযান নীলনকশার মুখ্য কারিগর, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি স্থানীয় সময় সোমবার (৩ নভেম্বর) মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তার পরিবারের তরফ থেকে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চেনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া, হৃদরোগ এবং রক্তনালির জটিলতায় ভুগছিলেন।
চেনি বহু আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। ৩৭ বছর বয়সে তিনি প্রথম হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন এবং ২০১২ সালে তার হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করা হয়।
রিপাবলিকান দলের সদস্য চেনি ওয়াইওমিং অঙ্গরাজ্যের কংগ্রেসম্যান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০০ সালের প্রেসিডেনশিয়াল নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্জ ডব্লিউ বুশ তাকে মনোনীত করার আগেই তিনি যথেষ্ট প্রতাপশালী হয়ে উঠেছিলেন। তাকে মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের আমলে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে হোয়াইট হাউজের মসনদের ক্ষমতা খর্ব হয়েছিল বলে বিশ্বাস করতেন চেনি। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল অব্দি দায়িত্ব পালনকালে তাই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা বৃদ্ধির জন্য তিনি বরাবরই সরব ছিলেন। এছাড়া, হোয়াইট হাউজে পৃথক জাতীয় নিরাপত্তা দল গঠন করে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা করেন।
চেনি ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সবচেয়ে জোরালো সমর্থকদের একজন ছিলেন এবং ইরাকের কথিত ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র মজুদের অভিযোগ তুলে আক্রমণের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও পরে এমন কোনও অস্ত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, তিনি ছিলেন সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াটারবোর্ডিং ও ঘুমাতে না দেওয়ার মতো কৌশলের কট্টর সমর্থক। পরবর্তীতে অবশ্য মার্কিন সিনেটের গোয়েন্দা কমিটি ও জাতিসংঘ মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এগুলোকে ‘নির্যাতন’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ডিক চেনির মেয়ে লিজ চেনিও রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে কংগ্রেসে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল দাঙ্গাকে ঘিরে তৎকালীন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনে ভোট দেওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে আসন হারান। ডিক চেনি তখন প্রকাশ্যে মেয়ের অবস্থানকে সমর্থন করেন এবং ২০২৪ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে ভোট দেওয়ার ঘোষণা দেন।
ট্রাম্পের সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের ২৪৮ বছরের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে বড় হুমকি আর কেউ নেই।