মার্কিন চাকরির বাজারে মন্দা, কমেছে নিয়োগ

মার্কিন চাকরির বাজারে মন্দা, কমেছে নিয়োগ

বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ চাকরির খোঁজে ভিড় জমান এই দেশে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার ঘিরেও তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা।

নতুন এক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এবং এ বছরের শুরুতে অতীতের তুলনায় দুর্বল ছিল যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজার। এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

মার্কিন শ্রম দপ্তর বলছে, ২০২৫ সালের মার্চে গত এক বছরের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদনের চেয়ে ৯ লাখ ১১ হাজার কম চাকরি হয়েছে। এই তথ্যে বার্ষিক ‘বেঞ্চমার্ক রিভিশন’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর চাকরির হিসাব অন্তর্ভুক্ত করতে প্রতিবছর এই সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করা হয়।

সংশোধিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে চাকরির সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল।

হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিনোদন ও হসপিটালিটি খাতে ১ লাখ ৭৬ হাজার কম চাকরি সৃষ্টি হয়েছে।

পেশাগত ও ব্যবসায়িক সেবা খাতে চাকরি কমেছে ১ লাখ ৫৮ হাজার।

খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ১ লাখ ২৬ হাজার কম চাকরি হয়েছে।

অপর এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের আগস্টে মার্কিন শ্রমবাজারে মাত্র ২২ হাজার নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। এই খবর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ আরও বৃদ্ধি করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি এর অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে আমদানির ওপর আরোপিত অতিরিক্ত করনীতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ফলে তারা নতুন কর্মী নিয়োগে পিছিয়ে যাচ্ছে।

বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ সাল গুয়াতিয়েরি বলেন, ‘সংশোধিত তথ্য চাকরির বাজারের একটি দুর্বল চিত্র দেখাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, যদিও এই তথ্য মার্চের পরের সময়ের অবস্থা সরাসরি দেখায় না, তবে এটি প্রমাণ করে যে শ্রমবাজার ‘বাণিজ্যযুদ্ধ শুরুর আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল।’

গুয়াতিয়েরি জানান, মার্চের পর থেকে গড়ে মাসিক চাকরি সৃষ্টি নেমে এসেছে মাত্র ৫৩ হাজারে, যা একটি স্পষ্ট অবনমনের ইঙ্গিত।

গত বছরও প্রাথমিক বেঞ্চমার্ক সংশোধনে দেখা গিয়েছিল, ২০২৪ সালেও প্রাথমিক তথ্যের তুলনায় ৮ লাখ ১৮ হাজার কম চাকরি তৈরি হয়েছিল।

তখন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই পরিসংখ্যান ‘কারসাজি করে তৈরি করা হয়েছে’ যাতে অর্থনীতির দুর্বলতা গোপন রাখা যায় এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা হয়। তবে সমালোচকেরা বলেছিলেন, যদি এ ধরনের কারসাজি থাকত, তাহলে সরকার কেন নির্বাচনের দুই মাসেরও বেশি আগে এই তথ্য প্রকাশ করত।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ওই বছরের চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশিত হলে কিছুটা ভালো হলেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই ছিল। তখন দেখা যায়, চাকরির সংখ্যা ৫ লাখ ৮৯ হাজার কম, যা আগের প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় সামান্য উন্নতি হলেও যথেষ্ট খারাপ।

সর্বশেষ এ তথ্য ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সুদের হার কমানোর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইএনজির অর্থনীতিবিদ জেমস নাইটলি জানিয়েছেন, শুধু সেপ্টেম্বর নয়, ফেডারেল সরকার অক্টোবর এবং ডিসেম্বরে সুদের হার আরও কমাতে পারে, যাতে অর্থনীতিতে গতি ফেরানো যায়।

চাকরি সৃষ্টির গতি কমতে থাকায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আস্থা কমে যাওয়ায় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নীতিনির্ধারকেরা এখন অর্থনীতিকে সচল রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তীব্র চাপে রয়েছেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin