সুদানের চলমান সংঘাত বন্ধে মার্কিন ও আরব দেশ সমর্থিত মানবিক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি হয়েছে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) গোষ্ঠীটির তরফ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুতার অবসান ঘটাতে তারা আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
আরএসএফের বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা প্রতাবিত চুক্তি বাস্তবায়নে আগ্রহী এবং অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা ও সুদানের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় মৌলিক নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
দেশটির সেনাবাহিনী এখনও এই প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদ এই প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। সেনাবাহিনীর কিছু প্রভাবশালী সদস্য ও সহযোগীরা এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন।
প্রায় আড়াই বছর ধরে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। তারা একাধিকবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হলেও কোনওটিই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা লড়াই থামাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, সহিংসতা নিরসন ও সুদানের জনগণের দুর্ভোগ কমানোর জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় আমরা উভয় পক্ষকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় সাড়া দিতে আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর গত সেপ্টেম্বরে তিন মাসের মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য ছিল।
আরএসএফের এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন দুর্ভিক্ষ আক্রান্ত শহর আল-ফাশিরের দখল নিয়ে দারফুর অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করেছে আরএসএফ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আল-ফাশির দখলের সময় ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরে আরএসএফের সদস্যরা বেসামরিক লোকদের নির্বিচারে অপহরণ ও নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে আরএসএফ নেতা যোদ্ধাদের বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আইনের কোনও লঙ্ঘন হলে তার বিচার হবে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ক্ষমতার অংশীদার দুই বাহিনীর মধ্যে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে মতভেদ থেকে এর সূত্রপাত। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং দেশজুড়ে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে।