মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ‘মার্কিন দ্বিচারিতার উদাহরণ’ বলে মন্তব্য করেছে চীন। বেইজিংয়ের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই হুমকি কার্যকর করে, তবে চীনও পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, চীন কোনও বাণিজ্য যুদ্ধ চায় না, কিন্তু হলেও ভয় পায় না। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ন্যায্যতা ও স্থিতিশীলতার পরিপন্থি।
শুক্রবার ট্রাম্প চীনের বিরল খনিজ রফতানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছিলেন, চীন বিশ্বকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। তিনি বেইজিংয়ের আচরণকে অত্যন্ত বৈরী আখ্যা দেন এবং সতর্ক করে বলেন, এ মাসের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসতে পারে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে বিশ্ববাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৭ শতাংশ কমে বন্ধ হয়, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় পতন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত মে মাসে ওয়াশিংটন ও বেইজিং উভয় দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর তিন অঙ্কের শুল্ক প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল। তবে সেই সমঝোতার পরও মার্কিন পণ্যের ওপর চীনের ১০ শতাংশ এবং চীনা পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক এখনও বহাল আছে।
মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণাকে অতিরিক্তভাবে ব্যবহার করছে, রফতানি নিয়ন্ত্রণের অপব্যবহার করছে এবং চীনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, চীনের সঙ্গে সংলাপের পথ হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা, শুল্ক হুমকি নয়।
গত সপ্তাহে চীন বিরল খনিজসহ উন্নত প্রযুক্তি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের রফতানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার ঘোষণা দেয়। বিশ্বে এই ধরনের উপকরণের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত করে চীন। সোলার প্যানেল, স্মার্টফোন ও সামরিক প্রযুক্তি উৎপাদনে এসব উপকরণের ব্যবহার অপরিহার্য।